প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেসম্যান ডেভ ব্র্যাটের দাবি, H-1B ভিসায় চলছে বড়সড় জালিয়াতি। তাঁর অভিযোগ, চেন্নাই কনস্যুলেট না কি একাই দিয়েছে ২.২০ লক্ষ H-1B ভিসা, যা মার্কিন কংগ্রেসের নির্ধারিত সীমার কয়েক গুণ বেশি।

H-1B ভিসা (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 26 November 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার এইচ-১বি ভিসা (H-1B Visa) ব্যবস্থা নিয়ে ফের তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেসম্যান এবং অর্থনীতিবিদ ডঃ ডেভ ব্র্যাট (Dr Dave Brat) দাবি করেছেন, এইচ-১বি ভিসায় 'শিল্পকারখানার মতো' জালিয়াতি চলছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের চেন্নাই না কি একাই ২.৫ গুণ বেশি ভিসা পেয়েছে, যা মার্কিন কংগ্রেস নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বহু ওপরে।
স্টিভ ব্যাননের ‘ওয়ার রুম’ (War Room Podcast) পডকাস্টে ব্র্যাট বলেন, 'এইচ-১বি পুরো সিস্টেমটাই দখল করে নিয়েছে বড় মাপের জালিয়াতির চক্র। আইনে নির্দিষ্ট ৮৫,০০০ ভিসার (Visa Cap) সীমা থাকলেও, শুধু ভারতের চেন্নাইয়ের ২,২০,০০০ জন ভিসা পেয়েছে। এটাকেই তো স্ক্যাম বলে।'
ব্র্যাটের মতে, এই পরিস্থিতি সরাসরি ক্ষতি করছে আমেরিকান কর্মীদের। তিনি মনে করেন, যাঁরা ভিসা পেয়েছেন তাঁরা সকলেই যে দক্ষ এমন নয়। ফলে আমেরিকার মানুষের চাকরি, বাড়ি, মর্টগেজ সবটাই বিপন্ন হচ্ছে।
চেন্নাই কনস্যুলেটে নজিরবিহীন ভিসা প্রসেসিং
মার্কিন কনস্যুলেট সূত্রে জানা যাচ্ছে, চেন্নাই কনস্যুলেট (US Consulate, Chennai) ২০২৪ সালে প্রায় ২.২ লক্ষ H-1B ভিসা আর আরও ১.৪ লক্ষ H-4 Visa প্রসেস করেছে। দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্য, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরল এবং তেলঙ্গানা থেকে আবেদন আসে বলে এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত H-1B কেন্দ্র ধরা হয়।
প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিকের অভিযোগ: ‘জালিয়াতি শিল্পে পরিণত’
এই মন্তব্যকে ঘিরে আবার সামনে এসেছে এক পুরনো অভিযোগ। প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক মাহভাশ সিদ্দিকি (Mahvash Siddiqui) দাবি করেছিলেন, ২০০৫–০৭-এ চেন্নাই কনস্যুলেটে তিনি ৫১,০০০-রও বেশি নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা (Non-Immigrant Visa) ইস্যু করেন, যার '৮০–৯০ শতাংশ H-1B আবেদন নাকি ভুয়ো।'মিথ্যে ডিগ্রি, নকল কাগজপত্র, এমনকি প্রক্সি প্রার্থী পর্যন্ত হাজির হত ভিসা নিতে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন হায়দরাবাদের আমেরপেট (Ameerpet)-এর। জানান, ওই এলাকায় না কি নকল চাকরির অফার লেটার, সার্টিফিকেট, এমনকি বিয়ের কাগজ পর্যন্ত খোলা বাজারে পাওয়া যায়।
সিদ্দিকির আরও অভিযোগ, জালিয়াতি ধরা শুরু করলে তাঁদের ওপর 'রাজনৈতিক চাপ (Political Pressure)' তৈরি হয়েছিল, আর তাঁদের উদ্যোগকে সংস্থার মধ্যেই 'রোগ অপারেশন' বলা হত।
তবু ভিসা ব্যবস্থার পাশে ট্রাম্প প্রশাসন
এইচ-১বি ভিসা মূলত আমেরিকায় বিশেষ দক্ষতার (Specialised Skills) বিদেশি কর্মী নিয়োগে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে ভারতের অংশ ৭০ শতাংশের কাছাকাছি।
বিতর্ক সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টই বলেছেন, আমেরিকার শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি আছে, এবং এইচ-১বি প্রোগ্রামকে তিনি সমর্থনই করেন।
এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, 'আমেরিকা বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাইলে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনতে হবে। ভুয়ো নয়।'