হায়দরাবাদের পদ্মা রাও নগরে মার্কিন ভিসা না মেলায় চরম অবসাদে আত্মঘাতী হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মহিলা চিকিৎসক। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল অবসাদ ও ভিসা প্রত্যাখ্যানের কথা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 November 2025 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদের পদ্মা রাও নগরের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার মহিলা চিকিৎসকের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মার্কিন ভিসা (US Visa Rejection) বারবার না মেলায় গভীর অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। আর সেকারণেই আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়েও কোনও সাড়া না পেয়ে পরিচারিকা পরিবারে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে রোহিনীর নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
চিকিৎসক রোহিনী গুন্টুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। হায়দরাবাদে ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ওই এলাকার লাইব্রেরিগুলিতে (Library) নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। ইন্টারনাল মেডিসিনে (Internal Medicine) বিশেষজ্ঞ হতে চেয়েছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ঘটনার তদন্তে কী পেল পুলিশ?
চিকিৎসকের দেহে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রোহিনী অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ (Sleeping Pills) খেয়ে অথবা নিজেকে ইনজেকশন (Injection) দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পোস্টমর্টেম (Post-Mortem) রিপোর্ট হাতে না এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।
ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note), যেখানে রোহিনী লিখে গিয়েছেন, তিনি গভীর অবসাদে ভুগছিলেন এবং মার্কিন ভিসা না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারও একই কথা জানাচ্ছে।
তাঁর মা লক্ষ্মী বলেন, “মেয়েটা আমেরিকায় যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিল কিন্তু ভিসা না মেলায় এই অবস্থা। ও খুব মেধাবী, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে কিরগিজস্তানে (Kyrgyzstan) এমবিবিএস করেছে। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হয়ে বিদেশে কাজ করার স্বপ্ন দেখত।”
তিনি মেয়েকে দেশে থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রোহিনীর যুক্তি ছিল, আমেরিকায় রোগী সংখ্যা কম, কাজের পরিবেশ ভাল এবং আয় বেশি (Income)। সেই কারণে তিনি বিদেশে কেরিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর চিকলাগুডা থানায় (Chilkalguda Police Station) একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুইসাইড নোটে যা লেখা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসক রোহিনীর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় মানসিক চাপে পড়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটেছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল দিক।