ভিসা করতে যাওয়ার আগে নিজের শারীরিক ও মানসিক, স্নায়ুর অসুস্থতা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
.jpeg.webp)
আপনি যদি খুব মোটা হন, আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে বাতিল হয়ে যেতে পারে ভিসার আবেদন।
শেষ আপডেট: 8 November 2025 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় লেখাপড়া, কাজ করতে যাওয়ার স্বপ্ন আছে! কিংবা পাকাপাকিভাবে মার্কিন মুলুকে আস্তানা গাড়ার। ভিসা করতে যাওয়ার আগে নিজের শারীরিক ও মানসিক, স্নায়ুর অসুস্থতা পরীক্ষা করিয়ে নিন। আপনি যদি খুব মোটা হন, আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে বাতিল হয়ে যেতে পারে ভিসার আবেদন। এরকমই নয়া ফরমান জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান আমেরিকা প্রথম, এর উপর ভিত্তি করে এতদিনকার রীতিনীতি বদলে দেওয়ার তুঘলকি কাণ্ড বাধিয়ে যাচ্ছেন। এবার তাঁর প্রশাসনের নতুন ফরমানে বলা হয়েছে যে, যেসব বিদেশি নাগরিকের ডায়াবেটিস, মোটাত্ব রয়েছে, তাঁরা যদি মার্কিন ভিসা কিংবা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেন, তাহলে তাঁদের সেই আবেদন বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।
দেশের বিদেশ মন্ত্রকের এই সরকারি নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই সব দেশের দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে কেএফএফ হেল্থ নিউজ এই খবর জানিয়েছে। এক পদস্থ অ্যাটর্নি জানান, প্রাথমিকভাবে যাঁরা আমেরিকায় স্থায়ী ঠিকানা খুঁজছেন, বিশেষত তাঁদের জন্য এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তীতে যে কোনও ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে।
বিদেশ মন্ত্রকের ওই নির্দেশিকা প্রতিটি মার্কিন দূতাবাস, কনসুলেটকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মার্কিন ভিসা অফিসারদের বলে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের শারীরিক কিছু অসুস্থতা, যেমন- কার্ডওভাসকুলার অসুখ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক ডিসঅর্ডার, নিউরোলজিক্যাল অসুস্থতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মোটাত্ব রয়েছে, তাঁদের ভিসা বাতিল করে দিতে। কারণ, এদেশে আসার পর তাঁদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ হয়ে যায়। যা বিদেশীদের জন্য করতে নারাজ ট্রাম্প।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ ধরনের বহিরাগত অসুস্থ অথবা বয়োবৃদ্ধ মানুষ সরকারের ঘাড়ে বোঝা হিসেবে চেপে যায়। যার ফলে আমেরিকার ভাঁড়ার থেকে প্রচুর সরকারি অর্থ জলের মতো বেরিয়ে যায়। এই নীতি সমস্ত ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও আপাতত যাঁরা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে চলেছেন, তাঁদের জন্য প্রয়োগ হবে।
ভিসা অফিসারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন আবেদনকারীর স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে মোটাত্বের উপর। কারণ মোটাত্ব থাকলে তা থেকে হাঁপানি, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা এবং হাই ব্লাড প্রেসারের মতো উপসর্গ তৈরি হতে পারে। এর ফলে এঁদের চিকিৎসায় সরকারি টাকা জলের মতো খসে যাবে।
বলা হয়েছে, এই রোগগুলি সারাতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং খুবই খরচসাপেক্ষ। ভিসা অফিসারদের অবশ্য এও বলা হয়েছে, আবেদনকারীরা যদি চিকিৎসা খরচ নিজে চালাতে সক্ষম হন, তাহলে বিবেচনা করা যেতে পারে। সেজন্য অফিসারদের তাঁদের আর্থিক সঙ্গতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে অফিসারদের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগ করতে বলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়াও মার্কিন দূতাবাস অনুমোদিত ডাক্তার দ্বারা চেকআপ করানোর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।