সাত পাকে বাঁধা পড়লেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে বিয়ে ভারতে নয়—দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে, ইউরোপের মাটিতে।

মহুয়া মৈত্র ও পিনাকী মিশ্র
শেষ আপডেট: 5 June 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত পাকে বাঁধা পড়লেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে বিয়ে ভারতে নয়—দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে, ইউরোপের মাটিতে। জার্মানির বার্লিন প্রাসাদের ছাদে চুপিসারে গাঁটছড়া বাঁধলেন তিনি। বর, বিজেডি-র প্রাক্তন সাংসদ পিনাকী মিশ্র।
সূত্রের খবর, ৫১ বছরের মহুয়া এবং ৬৫ বছরের পিনাকী—দু’জনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। সম্পর্ক বহুদিনের, কিন্তু তাঁকে আইনি স্বীকৃতি দিলেন এবার। মহুয়ার ঘনিষ্ঠ মহল এই বিয়ের খবর জানতেন বটে, তবে সর্বসমক্ষে এল তা শুক্রবার বার্লিনের ব্রেনডেনবার্গ গেটের কাছে।
বিশেষ নজর কেড়েছে নবদম্পতির সাজ। ঘিয়ে ও পিঙ্ক রঙের শাড়ি ও গয়নায় মোহময়ী মহুয়া, আর পাশে সাদা কুর্তা-পাজামা ও জহর কোটে পিনাকী—দু'জনের পোশাকেও ছিল রঙের মিল। বহুদিন ধরেই বলিউড তারকাদের মধ্যে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ট্রেন্ড। কিন্তু ভারতের রাজনীতিতে এ ছবিটা প্রায় অচেনা।
রাজনৈতিক মহলে এই বিয়ে ঘিরে জোর জল্পনা। কারণ, দু’জনেরই রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা কংগ্রেস থেকে, যদিও সময় ও প্রেক্ষিত আলাদা।
পিনাকী মিশ্র ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে ওড়িশার পুরী লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যোগ দেন বিজু জনতা দলে (বিজেডি)। দলীয় প্রার্থী হিসেবে ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯— টানা তিনবার জয়ী হন তিনি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি বিজেডি। ওড়িশা রাজনীতিতে গুঞ্জন, মহুয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েই বিতর্ক এড়াতে তাঁকে প্রার্থী করেননি নবীন পট্টনায়েক। যদিও, পাল্টা মতে, পিনাকী নিজেই প্রার্থী হতে চাননি।
অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ২০০৯ সালে রাজনীতিতে আসেন। প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন, পরে ২০১০ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখান। ২০১৬ সালে করিমপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ ও ২০২৪ সালে কৃষ্ণনগর থেকে পরপর দু’বার লোকসভায় জিতেছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ হিসেবে তাঁর স্পষ্ট বক্তৃতা ও সংসদীয় সক্রিয়তা তাঁকে তুলে এনেছে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, মহুয়া ও পিনাকীর বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবার পরিণয়ে পৌঁছলেও, তার প্রভাব রাজনীতির ময়দানেও পড়েছে কি না, সেই প্রশ্ন ঘুরছে ওড়িশা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির অলিন্দে।