ট্রাম্প এই উদ্যোগকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা (Ceasefire Enforcement), গাজার পুনর্গঠন (Reconstruction) এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের (Security Coordination) একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরেছেন।
.jpeg.webp)
স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প সনদটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরে হাসিমুখে ছবি তোলেন এবং অন্য নেতাদের স্বাক্ষরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বোর্ডের প্রথম সনদ (Charter) স্বাক্ষরিত হয়। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা (Ceasefire Enforcement), গাজার পুনর্গঠন (Reconstruction) এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ের (Security Coordination) একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, এর কার্যপরিধি (Remit) বাড়িয়ে আরব দুনিয়ার বাইরে বৈশ্বিক সংঘাত (Global Conflicts) সমাধানের ক্ষেত্রেও কাজ করবে এই বোর্ড।
অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর টেবিলে (Signing Table) ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাহরিন (Bahrain) ও মরক্কোর (Morocco) শীর্ষ নেতারা। পরে অন্য দেশের নেতারা জোড়ায় জোড়ায় এসে সনদে স্বাক্ষর করেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ (Ilham Aliyev) ছিলেন উপস্থিত নেতাদের অন্যতম। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আমরা যা করছি, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সত্যিই চেয়েছিলাম এখানে এসে এটা করতে, আর দাভোসের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প সনদটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরে হাসিমুখে ছবি তোলেন এবং অন্য নেতাদের স্বাক্ষরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
ট্রাম্প জানান, তিনিই হবেন বোর্ড অব পিসের প্রথম চেয়ারম্যান (Inaugural Chairman)। তাঁর দাবি, এই সংস্থার মধ্যে এমন সম্ভাবনা আছে, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর একটি করে তুলতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি এটার নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত। সংস্থাটি খুব ভালোভাবে শুরু হল। প্রায় সব দেশই এর অংশ হতে চাইছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হলে, আমরা প্রায় যা খুশি তাই করতে পারব, যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের (United Nations) সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে। আগে বহুবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমালোচনা করলেও এবার ট্রাম্প বলেন, এই বোর্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাজ যুক্ত হলে অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি একে আখ্যা দেন, বিশ্বের জন্য একেবারেই অনন্য এবং আরব দুনিয়ার জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ।
এই উদ্যোগ ঘিরে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটেন (United Kingdom) আপাতত বোর্ডে যোগ দেয়নি। যদিও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ।
ভাষণে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের বিদেশনীতি (Foreign Policy) নিয়েও বড় বড় দাবি করেন। তিনি বলেন, গত গ্রীষ্মে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে (Iranian Nuclear Sites) মার্কিন হামলায় (US Strikes) ইরানের ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন কথা বলতে চায়। তিনি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (Islamic State) বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি (Global Security Threats) ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, অনেক ভালো ঘটনা ঘটছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও আরব দুনিয়ার জন্য বিপদ এখন অনেকটাই কমছে, বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি ইতিমধ্যে আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি (Settled Eight Wars) করেছেন এবং আরেকটির সমাধান খুব শিগগিরই আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War) প্রসঙ্গে তুলনামূলক সংযত সুরে ট্রাম্প বলেন, যেটাকে আমি সবচেয়ে সহজ মনে করেছিলাম, সেটাই এখন সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষে অনুষ্ঠানকে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প আবারও বলেন, সবাই বোর্ড অব পিসের অংশ হতে চায় এবং তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘ সহ (United Nations) আরও অনেকের সঙ্গে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।