ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত।

কল্পিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে টানা কয়েক সপ্তাহের কড়া বক্তব্য ও চাপের রাজনীতির পর হেরে গেলেন বিশ্ব কাকাবাবু (ডোনাল্ড ট্রাম্প)। ইউরোপ এবং ন্যাটোর চাপের মুখে কিছুটা সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার রাতে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত।
গ্রিনল্যান্ডের ‘মূল্য’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মূল্য আছে। আমাদের হাতে গ্রিনল্যান্ড থাকলে ইউরোপ ও আমাদের দু’পক্ষের জন্যই ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা গ্রিনল্যান্ড চাই শুধু নিরাপত্তার জন্য, অন্য কোনও কারণে নয়। এমনকী মার্কও চায় ন্যাটো ও তার বাইরের পৃথিবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। রুট্টের কাজের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি দারুণ কাজ করছেন। পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামো ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।
বৈঠকের পর মার্ক রুট্টে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপর কোনও সামরিক হামলা হলে ইউরোপ নিঃশর্তভাবে পাশে থাকবে। তাঁর কথায়, যদি কখনও যুক্তরাষ্ট্রের উপর আক্রমণ হয়, আপনার বন্ধু দেশগুলি আপনাদের সঙ্গে থাকবে, এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকুন।
বৈঠকের পর ট্রাম্প লেখেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো সুমেরু অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামো তৈরি করেছি। এই সমাধান বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও সমস্ত ন্যাটো দেশের জন্যই উপকারী হবে।
এই সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যে শুল্ক আরোপের কথা ছিল, তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণ নিয়েও আলোচনা চলছে। আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-সহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে। তাঁরা সরাসরি ট্রাম্পকে রিপোর্ট করবেন।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে ১৯৫১ সালের সেই ঐতিহাসিক চুক্তি নতুন করে আলোচনায় আসছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। এক ন্যাটো কর্তার দাবি, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিতে পারে। যে অঞ্চলগুলো কার্যত মার্কিন সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছে, সুমেরু অঞ্চলে চিন ও রাশিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাবের মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবার প্রথম সরাসরি ‘দখল’ বা ‘চাপ’-এর বদলে নিরাপত্তা ও যৌথ স্বার্থের ভাষায় বিষয়টি উপস্থাপন করলেন ট্রাম্প।