ভারতের ক্ষেত্রেও ছবিটা উদ্বেগজনক। তীব্র গরম, অস্থির মৌসুমি বৃষ্টি, এবং তার সঙ্গে যুক্ত ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, হিটস্ট্রোক- সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 November 2025 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই মারাত্মক হয়ে উঠছে- তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, রোগের বিস্তার, সব মিলিয়ে মানবজীবন আজ এক ভয়াবহ সঙ্কটে। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়া, যেখানে জনসংখ্যা বেশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়ছে দ্রুত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের (climate funding) এই বিপর্যয়ের মধ্যেই উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য- ২০০৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জলবায়ু তহবিলের মাত্র ০.৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৭৩ মিলিয়ন ডলার, খরচ হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। বাকি অর্থ গিয়েছে অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রকল্পে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাডেলফি’র সাম্প্রতিক রিপোর্টে (Adelphi report) জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ, তার খুব সামান্যই খরচ হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে। অথচ রিপোর্টের আশঙ্কা, জলবায়ুর প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারে অতিরিক্ত গরম, সংক্রামক রোগ আর দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশ তাদের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (National Adaptation Plan বা NAP) স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিলেও, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নেই। পরিসংখ্যান বলছে, ৮৭ শতাংশ দেশের পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগ রয়েছে, তবুও সেই প্রয়োজনে বরাদ্দ হয়েছে মোট প্রয়োজনীয় তহবিলের ০.১ শতাংশেরও কম।
অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও বৈষম্য চরম। বরাদ্দ টাকার দুই-তৃতীয়াংশ গিয়েছে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, এক-চতুর্থাংশ সাব-সাহারান আফ্রিকায়, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায়, যেখানে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেখানে একটিও দেশভিত্তিক স্বাস্থ্য অভিযোজন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়নি। রিপোর্ট বলছে, এই অবহেলা 'প্রাণঘাতী ভুল', বিশেষ করে এমন সব অঞ্চলের ক্ষেত্রে, যেগুলি জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও ছবিটা উদ্বেগজনক। তীব্র গরম, অস্থির মৌসুমি বৃষ্টি, এবং তার সঙ্গে যুক্ত ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, হিটস্ট্রোক- সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের National Adaptation Fund ও রাজ্য পর্যায়ের পরিকল্পনা থাকলেও (climate adaptation), সেগুলি পর্যাপ্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক তহবিল না বাড়লে ভারতকে নিজস্ব বাজেট থেকেই বিশাল ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
আগামী ১০ নভেম্বর COP30 সম্মেলনকে ঘিরে তাই নতুন করে চাপ বাড়ছে ভারত ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের ওপর। জলবায়ু অভিযোজন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে অর্থ বরাদ্দের দাবি তুলছে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'এখনই যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, জলবায়ু সঙ্কট কেবল পরিবেশ নয়- একটি ভয়ংকর জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে পরিণত হবে।'