জানা গিয়েছে, ওই নার্স মূলত বৃদ্ধ রোগীদের সেডেটিভ ও পেইনকিলারের ইনজেকশন দিতেন, যার প্রভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 November 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নার্স মানেই সেবাশুশ্রূষার প্রতীক, তাঁর যত্নে রোগীরা নতুন জীবনে ফিরে আসবেন - এমনটা সবসময় নাও হতে পারে, তা প্রমাণ করল জার্মানির (Germany) এক ঘটনা। সেখানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের দায়িত্বে থাকা নার্সের (German Nurse accused of serial killing) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১০ জন রোগীকে খুন ও আরও ২৭ জনকে খুনের চেষ্টা করার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আকেন আদালত (Aachen court)। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই নার্স রাতের শিফটে কাজের চাপ কমানোর জন্যই এই কাজ করেছেন।
জানা গিয়েছে, মূলত বৃদ্ধ রোগীদের সেডেটিভ (ঘুমের জন্য ব্যবহার হয়) ও পেইনকিলার ইনজেকশন দিতেন, যার প্রভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জানিয়েছে, এই অপরাধগুলির ক্ষেত্রে অভিযুক্তের 'অত্যন্ত গুরুতর দোষ' প্রমাণিত হয়েছে। এর মানে, জার্মান আইনে ন্যূনতম ১৫ বছর জেল খাটার পরও তাঁর আগাম মুক্তির সম্ভাবনা প্রায় নেই।
এই অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে। ঘটনাস্থল, পশ্চিম জার্মানির আকেনের কাছে একটি ক্লিনিক। তবে রায় ঘোষণা করা হলেও তা আবারও আপিল করা যেতে পারে, সেই সুযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযুক্ত ওই নার্সের গোটা কেরিয়ার নিয়ে বেশ সতর্ক, তাঁরা আরও বেশ কিছু সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখছেন।
রাতে কাজের চাপ কমাতেই মারণ ইনজেকশন
বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই নার্স, যিনি একজন পুরুষ এবং নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, রাতের শিফটে কাজের চাপ কমাতে এই অভিনব উপায় বার করেছিলেন। তিনি তাঁর দায়িত্বে থাকা রোগীদের অতিরিক্ত মাত্রায় মিডাজোলাম ও মরফিন ইনজেকশন দিতেন। দু’টি ওষুধই ঘুম ও ব্যথা কমানোর সেডেটিভ শ্রেণির।
তিনি ২০০৭ সালে নার্সিং প্রশিক্ষণ শেষ করে ২০২০ সালে জার্মানির উরসেলেন (Wuerselen) শহরের এক হাসপাতালে চাকরি পান। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নার্সটির আচরণে প্রায়ই 'বিরক্তি' এবং রোগীদের প্রতি সহানুভূতির অভাব দেখা যেত। প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, তিনি নিজেকে 'জীবন ও মৃত্যুর হর্তাকর্তা' বলে ভাবতেন। ২০২৪ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও সন্দেহজনক কিছু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে
এএফপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন একাধিক দেহ কবর থেকে তোলার (exhumation) নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ওই অভিযুক্তের আরও সম্ভাব্য শিকারদের সম্পর্কে জানা যায়। তদন্তে নতুন প্রমাণ মিললে নতুন করে আবারও মামলা দায়ের হতে পারে।
এই ঘটনাটি জার্মানির এক ভয়াবহ অপরাধের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০১৯ সালে নিল হোগেল নামে এক প্রাক্তন নার্স ৮৫ জন রোগীকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা পান। তাঁকেও বিশ্বের অন্যতম 'সবচেয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।