ইসলামের কাঠামোতে নারীর অবস্থানকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। খামেইনির দাবি, ইসলাম নারীর পরিচয়, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির অধিকার রক্ষা করে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি
শেষ আপডেট: 4 December 2025 09:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) বাধ্যতামূলক হিজাব (Hijab) নিয়ে বিতর্ক ফের তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতেই ধারাবাহিক অনলাইন পোস্টে পশ্চিমী সমাজ, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করে কঠোর বার্তা দিলেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি (Ali Khamenei)। তাঁর দাবি, পশ্চিমী পুঁজিবাদ নারীর মর্যাদা নষ্ট করে, আর ইসলামই দেয় প্রকৃত সম্মান। ঠিক একই সময়ে ইরানের রক্ষণশীল অধ্যুষিত পার্লামেন্টের অর্ধেকেরও বেশি সদস্য বিচারব্যবস্থাকে তিরস্কার করেছেন হিজাব আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার জন্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) খামেইনির বার্তা ছিল স্পষ্ট - ইসলামিক রিপাবলিক যে বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি, লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন বা কঠোর শাস্তির নীতি মানে, তা নাকি 'নারীর অধিকার রক্ষার' (Women Protection) জন্য প্রয়োজনীয়। তাঁর বক্তব্য, সমাজের প্রথম দায়িত্ব হল “সামাজিক আচরণে ন্যায়বিচার ও পরিবারের অভ্যন্তরে ন্যায় বজায় রাখা”, আর সেই দায়িত্ব পশ্চিমী দেশগুলি রাখতে ব্যর্থ।
খামেইনির (Ali Khamenei) অভিযোগ, পশ্চিমী পুঁজিবাদ নারীর শরীরকে পণ্যে পরিণত করে। এই প্রেক্ষিতে তাঁর মন্তব্য, ''নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা তাঁর মৌলিক অধিকার।'' খামেইনির কথায়, আমেরিকাসহ পশ্চিমী সমাজে নারীরা একই কাজের জন্য পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান, ফলে তাঁরা 'বস্তু হিসাবে ব্যবহৃত' হন।
ইসলামের কাঠামোতে নারীর অবস্থানকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। খামেইনির দাবি, ইসলাম নারীর পরিচয়, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির অধিকার রক্ষা করে। তাঁকে ফুল হিসেবে বর্ণনা করে তিনি লেখেন, নারী পরিবারের নেতৃত্বের অংশ হিসেবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। এই কারণেই তাঁকে ফুলের (Flower) মতো সুরক্ষা দিতে হবে, আগলে রাখতে হবে।
এরপরেই তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। খামেইনি অভিযোগ করেন, মার্কিন পুঁজিবাদ পরিবার-ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় যে অপরাধচক্র নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, সেটিই নাকি পশ্চিমী সমাজে নারীর ‘বস্তুতান্ত্রিক’ অবস্থার প্রমাণ।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানে নারীরা কার্যত ‘লিঙ্গ অ্যাপারথাইড’-এর অধীনে। বাধ্যতামূলক হিজাব সাত বছর বয়স থেকেই, শিশুবিবাহের বৈধতা, গার্হস্থ্য হিংসা থেকে সুরক্ষা না থাকা - এসবই সেই বাস্তবতার অংশ। ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’ জানিয়েছে, নারীদের উপর অত্যাচার ও নজরদারির যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা বিশ্বের কোনও গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে তুলনাই চলে না।