বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভিসা ছাড় - এই সুবিধার অপব্যবহার করে কিছু ভারতীয়কে মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি বা বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে পৌঁছনোর পর বহু মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনাও সামনে এসেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2025 23:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান সরকার (Iran Govt) আগামী ২২ নভেম্বর থেকে ভারতীয় নাগরিকদের (Indian Citizens) জন্য একমুখী ভিসামুক্ত (One Time Visa) প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে। সে দিন থেকে দেশটিতে যেতে হলে বা ইরানের বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্য দেশে ট্রানজিট করতে হলেও আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক (Visa Mandatory)। সিদ্ধান্তের পরপরই ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক ভ্রমণকারীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের (Forgien Ministry) তরফে জানানো হয়েছে, ভিসা ছাড় - এই সুবিধার অপব্যবহার করে কিছু ভারতীয়কে মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি বা বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে ইরানে (Iran) নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে পৌঁছনোর পর বহু মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষিতেই বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২২ নভেম্বর থেকে ইরান সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের (Indian Passport) জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশ স্থগিত করেছে। অপরাধচক্রের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। এখন থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা (International Travellers) যদি ইরানের কোনও বিমানবন্দর হয়ে অন্য দেশে যান, তাহলেও তাঁদের ইরানের বৈধ ভিসা থাকতে হবে। ফলে সব এয়ারলাইনকে যাত্রীদের ভিসা-পত্র আগাম যাচাই করতে বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় ভারতীয়দের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিসামুক্ত যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দিলে কোনও এজেন্টের (Agent) ফাঁদে না পড়তে। চাকরির আশ্বাস বা তৃতীয় দেশে পাঠানোর নামে ইরান যাওয়ার প্রলোভন এড়াতে। এছাড়া ইরানে যাত্রার ক্ষেত্রে উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে।
ভারতীয়দের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশ নীতি চালু হয়েছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করা এবং পর্যটন বাড়ানোর লক্ষ্যে। ইরানের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্থানের আকর্ষণে প্রতিবছর বহু ভারতীয় দেশটিতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রতারণা, মানবপাচার ও অপহরণের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে পড়ায় নীতি বদলেছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
দিল্লি ও তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চাবাহার বন্দর থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময় - দুই দেশের সংযোগ বিস্তৃত। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি অটুট থাকবে, এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।