পুতিনের সরকারি কর্মসূচি শুরু হবে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে। এর পরে তিনি রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন - ভারত সফরে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য এটি প্রায় বাধ্যতামূলক কর্মসূচি হয়ে উঠেছে।

নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন
শেষ আপডেট: 4 December 2025 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) দু'দিনের সফরে ভারতে (India Tour) এসেছেন। দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর জন্য ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। গত জুলাইয়ে মোদীর মস্কো সফরের (Moscow Tour) সময় পুতিন যে আপ্যায়ন করেছিলেন, এই নৈশভোজ তারই প্রতিদান বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরে দুই নেতার আলোচনার সুর ঠিক কোন রূপ নেবে তা দেখার অপেক্ষায় কূটনৈতিক মহল।
পুতিনের সরকারি কর্মসূচি শুরু হবে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে। এর পরে তিনি রাজঘাটে (Rajghat) গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন - ভারত সফরে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য এটি প্রায় বাধ্যতামূলক কর্মসূচি হয়ে উঠেছে।
এর পর হায়দরাবাদ হাউসে (Hyderabad House) হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কাজের মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ভূ-কৌশল—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর।
রুশ সামরিক সরঞ্জামের বকেয়া সরবরাহ দ্রুত পাওয়ার বিষয়টি ভারত বৈঠকে জোরালোভাবে তুলতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine War) জড়িয়ে পড়ার পর রাশিয়ার কিছু প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাকি থাকা দুইটি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (S-400 Air Defense System) আগামী বছর মাঝামাঝি হাতে পাওয়ার বিষয়ে ভারত স্পষ্টতা চাইবে। ২০১৮ সালে ৫ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি করা হয়েছিল। তিনটি ইউনিট ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে ভারতের সম্ভাব্য আগ্রহের বিষয় হিসেবে সুউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কথাও উঠতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের ফাইটার প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ভারত বর্তমানে সম্ভাব্য বিকল্প খতিয়ে দেখছে—তালিকায় রয়েছে রাফাল, এফ-২১, এফ/এ-১৮ ও ইউরোফাইটার টাইফুনও।
পুতিন ও মোদীর বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী—রাজনাথ সিং ও আন্দ্রে বেলোসোভও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্প নিয়ে পৃথক বৈঠকে বসবেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে মার্কিন কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে মোদীকে বিস্তারিত জানাবেন পুতিন, এমনটাই ধারণা কূটনৈতিক মহলের। সংঘর্ষে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে ভারত বারবার বলেছে, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। সেই অবস্থান বজায় রেখেই নয়াদিল্লি নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর জায়গায় রাখতে চাইছে।