তিন রাষ্ট্রদূত হলেন, ব্রিটেনের লিন্ডি ক্যামেরন, ফ্রান্সের থিয়েরি মাথাউ এবং জার্মানির ফিলিপ একারম্যান। তিন রাষ্ট্রদূতের যৌথ নিবন্ধ নিয়ে নয়াদিল্লির কর্তারা অত্যন্ত বিরক্ত।

ব্রিটিশ দূতের নিন্দাসূচক নিবন্ধে ক্ষুব্ধ ভারত!
শেষ আপডেট: 3 December 2025 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামিকাল বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে আসছেন (Putin India Tour)। ২৩ তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। চলতি সপ্তাহে এটাই ভারতের রাজধানীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কার্যক্রম।
সেই সফরের আগে দিল্লিতে কর্মরত ব্রিটেন ফ্রান্স ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ ভারত সরকার (Indian Govt)। ওই তিন দেশের দিল্লির রাষ্ট্রদূতেরা একটি সংবাদপত্রে লেখা যৌথ নিবন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের (Russia President) কঠোর নিন্দা করেছেন। বলেছেন, পুতিন একজন নির্দয় ব্যক্তি। তিনি তিনি ইউক্রেনের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন। এমনকী শান্তি আলোচনারও তোয়াক্কা করেননি। নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে সোমবার।
এই তিন রাষ্ট্রদূত হলেন, ব্রিটেনের লিন্ডি ক্যামেরন, ফ্রান্সের থিয়েরি মাথাউ এবং জার্মানির ফিলিপ একারম্যান। তিন রাষ্ট্রদূতের যৌথ নিবন্ধ নিয়ে নয়াদিল্লির কর্তারা অত্যন্ত বিরক্ত।
রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র (India-Russia Relation)। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পরেও মস্কো দিল্লির স্বাভাবিক মৈত্রীর সম্পর্ক বজায় আছে। সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরাতে মরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হল, পুতিনের নিন্দা করে দিল্লির প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধের লেখকদের একজন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত, বাকি দুজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রের হয়ে দিল্লিতে কর্মরত। রাশিয়া থেকে ভারতের স্বল্প মূল্যে জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপিয় ইউনিয়নও জোরালো আপত্তি তুলেছে। রাশিয়ার তেল পরিশোধন করে ভারত যাতে অন্য দেশকে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি।
দিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূতদের যৌথভাবে পুতিনের নিন্দা করে নিবন্ধ লেখার পিছনে আসলে ভারতকেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলার চেষ্টা হয়েছে ভারত সরকার এমন একজনকে স্বাগত জানাতে চলেছে যার হাতে ইউক্রেনের মানুষের রক্ত লেগে আছে।
যুদ্ধ বাস্তবতা যাই হোক না কেন পুতিন ভারত সরকারের চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। স্বাধীনতার আগে থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তা আরও মজবুত হয় স্বাধীনতার পর। সেই ভীত এতটাই মজবুত যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া সহ নতুন দেশগুলির সঙ্গেও নয়া দিল্লির ঘনিষ্ঠতা বিদ্যমান।
ভারতের রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি আপত্তি তুললেও ইউক্রেন সরাসরি এই বিতর্কে জড়ায়নি। সেদেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিয়মিত কথা হয়। রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী দু'দেশের যুদ্ধ থামাতে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন।
তারপরও তিন ইউরোপিয় রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের যৌথ নিবন্ধ নয়াদিল্লিকে বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে ভারতের সংবাদপত্রে পুতিনের এমন সমালোচনা নয়া দিল্লির জন্য প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়েছে। এই বিষয়ে মস্কো কোন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কিনা এখনও জানা যায়নি। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের কর্তাদের ধারণা মস্কো কঠোর প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। ওই তিন রাষ্ট্রদূতকে ভারতের তরফে কিছু বলা হবে কি না তা এখনও পরিষ্কার করেনি বিদেশ মন্ত্রক। তবে ওই দেশগুলির সঙ্গে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনায় ভারত তাদের বিরক্তির কথা জানাতে পারে।