গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারত ও রাশিয়ার (India-Russia) মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত সপ্তাহে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এটি অনুমোদনের জন্য স্টেট দুমায় পাঠান।

মোদী-পুতিন
শেষ আপডেট: 3 December 2025 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-রাশিয়ার (India-Russia) দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক আরও একধাপ এগোল। পুতিনের ভারত সফরের (Putin's India Tour) আগে রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ, স্টেট দুমা (State Duma)- ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিল।
রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট (RELOS)- এই চুক্তি মূলত দুই দেশের সেনাবাহিনী, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের পারস্পরিক ব্যবহার এবং লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে একটি বড় কাঠামো তৈরি করবে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারত ও রাশিয়ার (India-Russia) মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত সপ্তাহে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এটি অনুমোদনের জন্য স্টেট দুমায় পাঠান। মঙ্গলবার তা পাশ হয়। দুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কৌশলগত ও বিস্তৃত। আমরা এই সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দিই। আজকের অনুমোদন দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
RELOS-এর মূল উদ্দেশ্য হল, ভারত ও রাশিয়ার সেনাবাহিনী যেন পরস্পরের ঘাঁটি, বন্দর, এয়ারবেস ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রুশ যুদ্ধজাহাজ ভারতের বন্দরে এসে জ্বালানি ভরতে পারবে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ রাশিয়ার বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে সামরিক বিমানের ক্ষেত্রেও। এর ফলে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সাহায্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধার- সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
নতুন চুক্তি এই সম্পর্ককে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া’-র আওতায় যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাও আরও জোরদার হবে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
অন্যদিকে মনে করা হচ্ছে, বিশ্বরাজনীতির পালাবদলের এই সময়ে ভারতকে গুরুত্ব দিতে রাশিয়া আগ্রহী, এমন বার্তাও এই ঘোষণা স্পষ্ট করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমী চাপের মুখে রাশিয়া এখন আরও বেশি করে এশিয়ার মিত্রদের দিকে ঝুঁকছে। আর নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখে ভারতও বহুমুখী কূটনীতিতে বিশ্বাসী। তাই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখাটাই দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুতিনের (Russia President Putin) আগামি সফরের আগে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণার অর্থ রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকে আরও কিছু বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জ্বালানি সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক সমন্বয়- এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।
ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্ব দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে। সোভিয়েত যুগ থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক গভীর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বদলালেও আস্থার সেতু অটুটই রয়েছে। এ কারণেই বর্তমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিল, "আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে শ্রদ্ধা করি।" আর ভারতের পক্ষ থেকেও পরিষ্কার বার্তা, দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতেও সমান গুরুত্বে এগিয়ে যাবে।