শুধু বিমান নয়, T-90 ট্যাঙ্কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিও রাশিয়া থেকেই এসেছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 December 2025 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আবারও এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। আগামী ৪-৫ ডিসেম্বরের মোদী-পুতিনের বৈঠক (Modi-Putin Meeting) ঘিরে দু'দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া 'অপারেশন সিঁদুর'-এ (Op Sindoor) রুশ প্রযুক্তি ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে শক্ত ভিত দিয়েছে। অভিযানে রাশিয়ার (Russia) সাহায্য যে ভারতের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তা আরও একবার প্রমাণিত।
নীতি-আয়োগের (Niti Ayog) সদস্য ও খ্যাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিজ্ঞানী ড. ভি কে সরস্বত সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত কয়েক দশক ধরেই ভারত-রাশিয়া একে অপরকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। ১৯৭০-এর সময়কাল থেকেই রাশিয়ার দেওয়া SAM-2 মিসাইল থেকে শুরু করে মিগ-২১, মিগ-২৩, মিগ-২৭, মিগ-২৯, মিগ-২৫—এই সব যুদ্ধবিমান দীর্ঘদিন ভারতের বায়ুসেনার প্রধান শক্তি হয়ে থেকেছে।
শুধু বিমান নয়, T-90 ট্যাঙ্কসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিও রাশিয়া থেকেই এসেছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, 'গত কয়েক দশকে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন দুই দেশ যৌথভাবে আধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ব্রহ্মোস মিসাইল- ব্রহ্মপুত্র ও মস্কো নদীর নাম মিলিয়ে তৈরি এই যৌথ প্রকল্প অপারেশন সিঁদুরে (Op Sindoor) ভারতীয় বাহিনীকে যে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা দিয়েছে, তা বিশ্বে প্রায় তুলনাহীন। ড. সরস্বতের মতে, ব্রহ্মোসের সাফল্যই দুই দেশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চিত্রটা সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে।
ভারতের সদ্য-অধিকৃত S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অপারেশন সিঁদুরে (Op Sindoor) সাফল্য এনেছে। শত্রুপক্ষের মিসাইল ও ড্রোন প্রতিরোধে এই রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছে। এর উন্নত রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি শত্রু বিমানকে ভারতীয় সীমান্তের অনেক দূরেই আটকে রাখে।
অন্যদিকে, 'সুখোই', রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ভারতে নির্মিত এই যুদ্ধবিমান সরাসরি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ভারতের আকাশশক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে এই বিমান অপারেশনে শত্রুপক্ষের দিকে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত-রাশিয়া (India-Russia) সহযোগিতা শুধু প্রতিরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে সাবমেরিন প্রযুক্তি- বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ভারতের শক্তি ও সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রাশিয়ার রিঅ্যাক্টর এখনও অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ড. সরস্বতের কথায়, রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগী। সময়ের পরীক্ষায় এই সম্পর্ক বারবার সফল প্রমাণিত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতেও এই দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশাবাদী তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) সময় S-400–এর কার্যক্ষমতা নিয়ে বায়ুসেনা সন্তোষ প্রকাশ করে। আদমপুরে মোতায়েন একটি ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি বিমান গুলি করে নামিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি একই সঙ্গে ৩০০-র বেশি বিমান লক্ষ্য ট্র্যাক করা এবং পাঁচ মিনিটের কম সময়ে যুদ্ধ-প্রস্তুত হয়ে ওঠার ক্ষমতা এই ব্যবস্থাকে ভারতের প্রতিরক্ষা জালে ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ করে তুলেছে।
পুতিনের সফরের সময় S-400–এর সম্প্রসারিত চুক্তি ছাড়াও ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। লক্ষ্য - ২০২৬ সালের মধ্যেই নতুন সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা।