কয়েক ঘণ্টা আগেই বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) শীর্ষ নেতারা জানান, ৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নরেন্দ্র মোদী এবং খালেদা জিয়া
শেষ আপডেট: 1 December 2025 22:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh Ex PM) ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) শারীরিক অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সোমবার রাতে হঠাৎ এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের জনজীবনের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একইসঙ্গে দিল্লির পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,“বেগম খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) স্বাস্থ্যের অবনতির খবর জানতে পেরে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বহু বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা রইল। আমরা যেভাবে পারি, যে কোনও ধরনের সাহায্য করতে ভারত প্রস্তুত”।
মোদীর এই বার্তা দু’দেশেই রাজনৈতিক (India Bangladesh Relation) ও কূটনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। আপাত ভাবে এই বার্তা খুবই সাধারণ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করাটাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে দস্তুর। দ্বিপাক্ষিক বন্ধু সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত।
Deeply concerned to learn about the health of Begum Khaleda Zia, who has contributed to Bangladesh’s public life for many years. Our sincere prayers and best wishes for her speedy recovery. India stands ready to extend all possible support, in whatever way we can.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 1, 2025
তবে এক, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ট্যুইট দেখে অনেকেই বেগম জিয়ার (Khaleda Zia) শারীরিক অবস্থা নিয়ে আরও উদ্বেগে পড়েছেন। আর দুই, কেউ কেউ মনে করছেন যে, যেহেতু বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, তাই বেগম জিয়ার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।
কী হয়েছে খালেদা জিয়ার?
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন (BNP Chairperson) খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। শ্বাসকষ্টের জটিলতা নিয়ে তাঁকে ভর্তি করা হলেও, আগে থেকেই তাঁর কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসের সমস্যা ছিল। রোগীর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টিম তাঁর চিকিৎসা নজরে রাখছেন।
এমন অবস্থায় রবিবার তাঁকে দেখে এসে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস জানান, “ম্যাডাম চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন, আমাদের চিনতে পারছেন।” যদিও সোমবার দুপুরে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “ম্যাডামের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এখন একমাত্র আল্লাহর রহমতই ভরসা।”
মা মৃত্যুপথযাত্রী, তবুও দেশে ফিরছেন না তারেক - ক্ষোভ ছড়াচ্ছে কর্মীদের মধ্যে
খালেদা জিয়া জীবনমরণ–সঙ্কটে, তবুও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে না ফেরায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বিএনপি–সমর্থকদের (BNP Supporters) মধ্যে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও কর্মীসমর্থকদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
দু’দিন আগে ফেসবুকে তারেক লিখেছিলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নির্ধারিত নয়। স্পর্শকাতর কারণবশত বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এর পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায় - অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে কি তাঁর দেশে ফেরায় কোনও বাধা দেওয়া হয়েছে?
সরকারি মহল অবশ্য এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও বলেন, তারেকের পাসপোর্ট না থাকলে একদিনের মধ্যেই ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হবে। কিন্তু তারেক এখনো সেই আবেদনে এগোননি।
খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা
এদিকে গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেই সোমবার রাতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারিভাবে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VVIP) হিসেবে ঘোষণা করেছে ঢাকা। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার থেকে নিয়োজিত থাকবে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী—স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ–সংক্রান্ত নোটিস জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।