Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেই২০ বছরের 'রাজ্যপাট'! ইস্তফা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন বাবু' নীতীশ কুমারের, উত্তরসূরির শপথ কবেমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেফতারের পর এবার পরিবারের পালা! ইডির নজরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাই, তলব দিল্লিতেSakib Hussain: গয়না বেচে জুতো কিনেছিলেন মা, সেই ছেলেই আজ ৪ উইকেট ছিনিয়ে আইপিএলের নতুন তারকা হয় গ্রেফতার, নয় কৈফিয়ত! অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে কলকাতার থানাগুলোকে নির্দেশ লালবাজারের‘মমতা দুর্নীতিগ্রস্ত! বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট চলে, কাজই বেকারের সংখ্যা বাড়ানো’, মালদহে রাহুল‘আমার মতো নয়’! সন্দেহের বশে ৬ বছরের ছেলেকে নদীতে ফেলে খুন, দেহ ভেসে উঠতেই ফাঁস বাবার কীর্তি

হাসিনাকে উৎখাত, তারেককে ফিরতে না দেওয়ার পিছনে একই শক্তি? হঠাৎ '৫ অগস্ট'-এর‌ গ্রাসে বিএনপি

বিএনপি'র জন্য চলতি পরিস্থিতি যে গুরুতর রাজনৈতিক সংকট তাতে কোন সন্দেহ নেই। ‌আওয়ামী লিগের সঙ্গে তাদের ফারাক হল, শেখ হাসিনার দলের সরকারিভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং দলনেত্রী সহ পার্টির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশ ছাড়া অথবা আত্মগোপনে আছেন।

হাসিনাকে উৎখাত, তারেককে ফিরতে না দেওয়ার পিছনে একই শক্তি? হঠাৎ '৫ অগস্ট'-এর‌ গ্রাসে বিএনপি

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 1 December 2025 18:17

অমল সরকার

বাংলাদেশের রাজনীতির  (Bangladesh politics) সময় সারণিতে ২০২৪ এর ৫ অগস্ট এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।‌ সেদিন শুধু শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতন হয়েছিল তাই নয় সেই থেকে বাংলাদেশ এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে। ‌আচমকা আবির্ভূত দুর্যোগের ঢাকা আওয়ামী লিগ (Awami League) এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

বাংলাদেশের গত কয়েকদিনের ঘটনা প্রবাহে স্পষ্ট, ২৩ নভেম্বর তারিখটি সে দেশের আর এক অন্যতম দল বিএনপি'র জন্য পাঁচ অগস্ট-এর মত এক বিপর্যয় হিসেবে হাজির হয়েছে। আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে (BNP chairperson Khaleda Zia) ওইদিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে অবনতি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল তাঁর বড় ছেলে তারেক জিয়া এই পরিস্থিতিতেও মায়ের পাশে থাকতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছেন, তার দেশে ফেরাটা পুরোপুরি একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না। ‌

খালেদা জিয়া বহু বছর হল অসুস্থ। বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অশীতিপর খালেদা এ যাত্রায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কোনও সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। যদিও তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব এতটাই যে বিএনপি খালেদাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে মনোনয়ন দিয়েছে। ‌

বাঁদিকে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, ডানদিকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা তারেক জিয়ারও। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, মায়ের এমন গুরুতর অসুস্থতার সময় দেশে ফিরতে না পারা তারেক জিয়া (BNP's acting Chairperson Tarek Zia) কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন? তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে যে মহলের আপত্তি তারা কি বিএনপি'র এই সেকেন্ড ইন কমান্ডকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেবে?

বিএনপি'র জন্য চলতি পরিস্থিতি যে গুরুতর রাজনৈতিক সংকট তাতে কোন সন্দেহ নেই। ‌আওয়ামী লিগের সঙ্গে তাদের ফারাক হল, শেখ হাসিনার দলের সরকারিভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং দলনেত্রী সহ পার্টির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশ ছাড়া অথবা আত্মগোপনে আছেন।

অন্যদিকে বিএনপি'র চেয়ারপারসন খালেদা গুরুতর অসুস্থ। ‌কার্যনির্বাহী চেয়ারপারসন তারেক‌ অদৃশ্য শক্তির অনুমতি না পাওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরিণতি আরও অন্ধকারময় হয়ে উঠতে পারে বলে ধরে নেওয়া যায়। বলাই বাহুল্য সেটা দেশটির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ‌

দেশটির প্রধান দুই দলই যে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে তার আভাস রয়েছে শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে। গত শুক্রবার শেখ হাসিনার পুত্র জয় এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে বাংলাদেশের দুটি প্রধান দল আওয়ামী লিগ ও বিএনপি'র নেতৃত্ব বদলের চেষ্টা হচ্ছে। পরদিন শনিবার সকালে বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ফেসবুক পোস্টে জানান, মায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর জেনেও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না কারণ বিষয়টি তাঁর একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না।‌

বিএনপি চেয়ারপারসন অর্থাৎ তারেকের মা খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ‌ তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যমে মানুষে লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা অতি সংকটজনক। তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।‌

তারেক ও জয়, দু'জনেই বাংলাদেশের দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান দুই দলের সর্বময় নেত্রীর পুত্র।‌ ঘটনাচক্রে তাঁরা দুজনেই এখন প্রবাসে আছেন। জয় দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। ‌মহম্মদ ইউনুসের সরকার তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্টটি বাতিল করায় হাসিনা পুত্র সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এটা শুধুমাত্র জয়ের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্যও এক ভয়ংকর বার্তা। সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের জাতির পিতা তথা দেশটির স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি। দেশের বর্তমান সরকারের কতটা নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতিতে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন তা সহজেই অনুমেয়

অন্যদিকে, তারেক জিয়া ২০০৮ সাল থেকে লন্ডন নিবাসী। ‌তিনি চিকিৎসা করাতে গিয়ে‌ আর দেশে ফেরেননি।‌ তাঁর লন্ডন যাত্রার কাহিনি অবশ্য ভিন্ন।‌ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিএনপি বারে বারে অভিযোগ করত, আওয়ামী লিগ সরকারের প্রতিহিংসার ভয়ে তারেক দেশে ফিরতে পারছেন না। তখন দুর্নীতির একাধিক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। এমনকী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তাঁর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল।‌

সেই পরিস্থিতির আচমকা আমূল পরিবর্তন ঘটে যায় গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর।‌ বাংলাদেশের উচ্চ আদালত গুলি তারেক জিয়াকে সমস্ত মামলা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে। ফলে আইনত তাঁর দেশে ফিরতে কোন বাধা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারও জানিয়েছে, বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারপারসন তারেক জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে তাঁদের কোন আপত্তি নেই।

শুধু খালেদা জিয়ার অসুস্থতাই নয়, মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ায় তারেক জিয়ার গত মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিএনপি ইতিমধ্যে তাঁকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দল ক্ষমতা এলে তারেক প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন ঘোষণাও বিএনপির তরফে করা হয়েছে।

কিন্তু আচমকাই সব ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে। ঢাকার হাসপাতালে মা খালেদা যখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এবং দেশবাসী তাঁর আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করছেন তখন পুত্র তারেক দেশে ফেরা নিয়ে তাঁর অসহায়িতার কথা জানিয়েছেন। এবং তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তাঁর একার উপর নির্ভর করছে না। তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোন পক্ষ তাঁর দেশে ফেরাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা স্পষ্ট করেননি বিএনপি'র সেকেন্ড ইন কমান্ড। ‌

তারেকের দেশে ফিরতে না পারা নিয়ে আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে ১৭ বছর আগে ২০০৮-এ তাঁর দেশত্যাগের প্রসঙ্গ। সেই সময় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে গ্রেফতার করেছিল দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। ‌ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। অভিযোগ, মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের‌ সুযোগ নিয়ে তারেক ঢাকার হাওয়া ভবনে সমান্তরাল প্রশাসন খুলে বসেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ এনেছিল। গ্রেফতার করে তারেককে সেনা হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে তাঁর ওপর গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছিল বলে দেশ ছাড়ার পর অভিযোগ করেছিলেন তারেক। ‌

বিএনপি রাজনৈতিক ইতিহাসে সে এক অন্ধকারময় পর্ব। খালেদা জিয়া স্বপরিবারে অর্থাৎ তিনি নিজে এবং তাঁর দুই পুত্র তারেক ও আরাফাত রহমান ওরফে কোকো একই সময়ে দুর্নীতির মামলায় জেলে ছিলেন। ‌ খালেদা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনুনয় বিনয় করে প্রথমে তাঁর ছোট ছেলে কোকোর জামিনের ব্যবস্থা করেন। ‌জামিনে মুক্ত কোকো প্রথমে থাইল্যান্ড, পরে মালয়েশিয়ায় থিতু হন। মালয়েশিয়াতেই অকালে মারা যান খালেদার ছোট ছেলে।

জেলবন্দি খালেদা ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিলে সেনাবাহিনী তাঁর ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্তে খালেদার দাবি মত বড় ছেলে তারেককেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডন যান। তার আগে সেনাবাহিনীকে খালেদা কথা দেন তারেক আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। সেই সময় তারেক ছিলেন বিএনপি সিনিয়র মহাসচিব। ‌জামিন পাওয়ার অলিখিত শর্ত হিসেবে তিনি দলীয় পথ থেকে ইস্তফা দেন।

সে সময় কারাগারে ছিলেন বিএনপি'র প্রবীর নেতা, মুক্তিযোদ্ধা মওদুদ আহমদ। তাঁর আত্মজীবনী মূলক বই‌ 'কারাগারে কেমন ছিলাম, ২০০৭-২০০৮'-এ দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার আইন উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা এই ব্যারিস্টার লিখেছেন, সেই সময় সেনা কর্তাদের সঙ্গে জেলখানায় প্রায়ই বৈঠক হতো খালেদা জিয়ার। প্রবীর নেতার ধারণা তারেক জিয়া আর রাজনীতিতে আসবেন না, এই মর্মে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তখন মুচলেকা দিয়ে থাকতে পারেন।

তবে তারেক জিয়ার জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হয় বাংলাদেশের তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির হোয়াইট হাউসে পাঠানো গোপন তারবার্তা। উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া সেই বার্তায় দেখা যায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত তারেক জিয়াকে এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন এই ব্যক্তিকে‌ ঘুষ না দিয়ে বাংলাদেশে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। এরফলে মার্কিন স্বার্থ বিপন্ন হচ্ছে এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই ছোট দেশটি ক্রমশ দুর্নীতি চাদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলে মার্কিন কূটনীতিক তাঁর কেবলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে হোয়াইট হাউজকে পরামর্শ দেন তারেক জিয়াকে যেন কখনও আমেরিকায় যাওয়ার ভিসা না দেওয়া হয়। সেই থেকে তারেকের আমেরিকা যাওয়া বন্ধ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের খবর, ২০০৮-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেককে জামিন দিলেও তাতে আপত্তি ছিল সেনাবাহিনীর। সেনার তৎকালীন প্রধান মঈন‌ ইউ আহমদ চেয়েছিলেন তারেককে কারাগারে বন্দী রেখে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে। কিন্তু খালেদা জিয়ার পীড়াপীড়িতে তাঁর বড় পুত্রকেও শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেও তারেক দেশে ফেরেননি।‌ কবে ফিরবেন তাও কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।

অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ তারেক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। ‌বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছিল তাদের নেতা নভেম্বরেই ফিরবেন। এখন যখন মায়ের গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তারেক দেশে ফিরছেন না তখন সংশয় তৈরি হয়েছে সত্যিই তিনি ভবিষ্যতে ফিরতে পারবেন কিনা। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার যে অবনতি হয়েছে তাতে বিএনপি'র শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যস্থান তৈরি হতে চলেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার উপর তাঁর পুত্রের দেশে ফেরা নিয়ে ঘোরতর সংশয় রয়েছে।

অন্যদিকে গত মাসে ঢাকার একটি ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এরপর দুর্নীতির দুটি মামলায় হাসিনার মোট ২৬ বছর জেল হয়েছে। কারাদণ্ড হয়েছে তাঁর বোন শেখ রেহানার। তাঁর কন্যা ব্রিটিশ নাগরিক তথা লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককেও ঢাকার আদালত দু বছর কারাবাসের সাজা‌ দিয়েছে। কারাদণ্ড হয়েছে হাসিনার পুত্র জয় এবং কন্যা সায়েমা ওয়াজের পুতুলেরও। ‌তাদের সকলেরই পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে আদালতের মুখোমুখি হতে হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া তাঁরা কেউ দেশে ফিরতে পারবেন না। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে‌র‌ রাজনীতিতে বহু চর্বিত 'মাইনাস ফোর' ফর্মুলা বা কৌশল বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ‌

২০০৭-'০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল বলে মনে করা হয়। সেনা সমর্থিত সেই সরকার চেয়েছিল হাসিনা, খালেদা ও‌ তাঁদের পুত্র-কন্যাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীকে‌ এমনকী বিদেশে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।‌ তবে নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ এ সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় পর্বে ক্ষমতায় ফেরেন হাসিনা। তারপর টানা ১৫ বছর‌ সরকার পরিচালনার পর গত বছর ৫ অগস্ট বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তিনি। গণ অভ্যুত্থানকারীদের‌ হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে।

সেই ঘটনায় উল্লসিত বিএনপি মনে করেছিল, এবার ক্ষমতায় আসা তাদের জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দলের তরফে তারেক জিয়াকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তুলে ধরা শুরু হয়। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে ততই পরিস্থিতি বিএনপি'র প্রতিকূলে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকেই।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের চেহারা নিলেও হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে মার্কিন ডিপস্টেট এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর হাত রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়ে থাকে। জানা যাচ্ছে তারেক জিয়ার দেশে ফেরা নিয়েও সবুজ সংকেত দিচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। অন্যদিকে, দেশে তারেককে নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছেন না, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানও।

রাজনীতির এ‌ বড় বিচিত্র সমাপতন। বাংলাদেশের প্রধান দুই দল যারা স্বাধীনতার পর সিংহভাগ সময়ে সরকার পরিচালনা করেছে তাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। ১৭ বছর আগের সেনাবাহিনীর মাইনাস ফোর ফর্মুলা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সেই ফর্মুলার আসল কারিগর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা আর গোপন নেই।


```