শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় কূটনৈতিক চিঠি পরীক্ষা করছে দিল্লি। রায়ের উল্লেখসহ নোট ভারবাল খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 26 November 2025 21:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে যে কূটনৈতিক পত্র বা নোট ভারবাল পাঠিয়েছে সেটি বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিচার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কূটনৈতিক পত্র বা নোট ভারবালটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
হাসিনাকে ফেরত চেয়ে এর আগে দু'বার ভারতকে চিঠি দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চিঠি দুটির কোন জবাব ফেরত দেয়নি। তৃতীয় কূটনৈতিক পত্র নিয়ে ভারত প্রথম প্রতিক্রিয়া দিল। চিঠির বক্তব্য বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মন্তব্য করার পর বাংলাদেশের কোন কোন মহল দাবি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হাসিনাকে ফেরাতে চাইছে ভারত। যদিও কূটনৈতিক মহলের অনেকেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, তৃতীয় কূটনৈতিক চিঠিতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের উল্লেখ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলতে চেয়েছেন এই রায় সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত সরকার খতিয়ে দেখছে। এটা এক প্রকার রুটিন জবাব।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করব।
দিল্লির প্রতিক্রিয়ার খানিক আগেই ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের চিঠির জবাব এখনও ভারত দেয়নি। তিনি একইসঙ্গে মন্তব্য করেন, এত দ্রুত ভারত জবাব দেবে সেটা তাঁরা প্রত্যাশা করেন না। তিনি জানান নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন মারফত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত বছর ৫ আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে চলতি মাসের ১৭ তারিখ ঢাকার একটি ট্রাইবুনাল হাসিনা এবং বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সেদিনই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে ছিল হাসিনা সাজার বিষয়টি তাদের নজরে আছে। ভারত-বাংলাদেশে গণতন্ত্র শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবে।
এর আগে দু'বার হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। সেই চিঠির জবাব দেয়নি ভারত। তৃতীয়বার ট্রাইবুনালের রায় উল্লেখ করে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক।