মঙ্গলবার অযোধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রাম মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলন (Ram Mandir Dhwajarohan) করেন। সেই অনুষ্ঠানকে নিশানা করে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক মন্তব্য করে, ভারতে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন। তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানগুলি অবহেলা শিকার।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিল নয়া দিল্লি (New Delhi)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বুধবার বলেছে, সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলার কোন নৈতিক অধিকার পাকিস্তানের নেই। সে দেশে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুদের গোঁড়ামির শিকার। পাকিস্তান তাই সংখ্যালঘু স্বার্থ নিয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়েছে।
মঙ্গলবার অযোধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রাম মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলন (Ram Mandir Dhwajarohan) করেন। সেই অনুষ্ঠানকে নিশানা করে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক মন্তব্য করে, ভারতে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন। তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানগুলি অবহেলা শিকার।
বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal ) পাকিস্তানের ওই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন ইসলামাবাদের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং উস্কানিমূলক। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই। গোটা বিশ্ব জানে সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপরে কী ধরনের নিপীড়ন নির্যাতন চলছে। ওই দেশের তাই সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভাষণ দেওয়ার কোন অধিকার নেই। পাকিস্তানের বরং দেশে বিপন্ন মানবাধিকার এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মাচরণের অধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
অযোধ্যায় মঙ্গলবার এর অনুষ্ঠানটি ছিল রাম মন্দির নির্মাণের সমাপ্তি উপলক্ষে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া ধ্বজা ওড়ান। এই উপলক্ষে অযোধ্যায় বিপুল ভক্ত সমাগম হয়েছিল। রাম মন্দির নির্মাণ ট্রাস্ট প্রায় সাত হাজার অতি থেকে আমন্ত্রণ জানায় ওই অনুষ্ঠানে। গোটা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায় ওই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। ওই অনুষ্ঠানের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজধর্মের উল্লেখ করে বলেন ভগবান রাম কোনও ভেদাভেদ করতেন না। সেই ভাবনা নিয়েই চলছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দাবি তার সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিশ্বাস করে।
অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরের উদ্বোধন হয় গত বছরের ২২ জানুয়ারি। তার আগে ২০১৯ এর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমি শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থান বলে রায় দিয়ে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের ফলে অযোধ্যায় মন্দির মসজিদ নিয়ে ৫০০ বছরের আইনি বিবাদের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন এখন অযোধ্যা আধুনিকতা এবং আধ্যাত্মিকতার এক মিলন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
অযোধ্যার ওই অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পাকিস্তান। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থানগুলির যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। বুধবার সেই মন্তব্যের করা জবাব দিল ভারত।