২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 October 2025 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিবিসির 'সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ' অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। এটি কোনও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে যাওয়ার পর এই প্রথমবার কমলা হ্যারিস হোয়াইট হাউসে ফেরার লড়াইয়ে নামার বিষয়ে কথা বললেন।
সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি মনে করেন ভবিষ্যতে কোনও নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন? উত্তরে কমলা হ্যারিস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "আমি নিশ্চিত, আমার নাতি-নাতনিরা তাদের জীবদ্দশায় অবশ্যই একজন নারী প্রেসিডেন্ট দেখতে পাবে।"
এরপর যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিজেই কি সেই নারী হতে পারেন? উত্তরে তিনি বলেন, "সম্ভবত।" এর মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেন যে, দেশের শীর্ষ পদের জন্য তিনি আরেকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন।
কমলা হ্যারিস জানান, তিনি এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে জোর দিয়ে বলেন যে তিনি রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ দেখছেন। তিনি বলেন, "আমি এখনও ফুরিয়ে যাইনি। আমি আমার পুরো কর্মজীবনই মানুষের সেবায় কাটিয়েছি। এটা আমার রক্তে মিশে আছে।"
নিজের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কমলা তাঁকে 'স্বৈরশাসক' বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ট্রাম্প সম্পর্কে যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তা আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়-সংক্রান্ত এক জরিপে কমলা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারেকাছেও নেই। এমনকি হলিউড অভিনেতা ডোয়াইন জনসনের (দ্য রক) চেয়েও তিনি পিছিয়ে আছেন বলে তথ্যে দেখা যাচ্ছে।
এই তথ্যের ফলাফল উড়িয়ে দিয়ে কমলা বলেন, তিনি কখনও এসব ফলে কান দেন না। তাঁর ভাষায়, "আমি যদি এসব কথা শুনতাম, তাহলে আমার প্রথম অফিস বা দ্বিতীয় অফিসের জন্য লড়তাম না। আর নিশ্চিতভাবেই আজ এখানে বসতে পারতাম না।"
উল্লেখ্য, ডেমোক্রেটিক পার্টি যখন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত নির্বাচনের বিজয়ের কারণ খুঁজছে, তখন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাঁধেই বেশির ভাগ দায় চাপানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কমলাও ভালভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারতেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।