সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানটি স্প্রিং জাপান (Spring Japan) নামে জাপান এয়ারলাইন্সের একটি লো-কস্ট শাখার অধীনে চলছিল। ঘটনার সময় বিমানে ১৯১ জন যাত্রী সহ ক্রু সদস্যরা ছিলেন।

২৬ হাজার ফুট নীচে নামল বিমান!
শেষ আপডেট: 2 July 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংহাই থেকে টোকিও যাচ্ছিল জাপান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ বিমান (Japan Airlines flight from Shanghai to Tokyo)। কিন্তু মাঝপথেই ঘটে গেল বড়সড় বিপদ। আচমকাই বিমানটি প্রায় ২৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই নেমে আসে মাত্র ১০ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায়। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। তাঁদের জন্য খুলে দেওয়া হয় অক্সিজেন মাস্ক (Oxygen Mask)। বিমানের ভেতরে থাকা বহু যাত্রী মনে করেছিলেন, হয়তো এই যাত্রাই তাঁদের জীবনের শেষ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানটি স্প্রিং জাপান (Spring Japan) নামে জাপান এয়ারলাইন্সের একটি লো-কস্ট শাখার অধীনে চলছিল। ঘটনার সময় বিমানে ১৯১ জন যাত্রী সহ ক্রু সদস্যরা ছিলেন। বিমানটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে মাঝ আকাশে সমস্যায় পড়ে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওসাকার কানসাই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান পাইলট। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার জেরে কেউ আহত হননি।
ঘটনার পরে একাধিক যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এক যাত্রী লেখেন, 'আমার শরীর এখনও ঠিক আছে, কিন্তু আত্মা যেন আকাশেই রয়ে গিয়েছে। এখনও পা কাঁপছে। জীবন-মৃত্যুর মুখে দাঁড়ালে সব কিছুই তুচ্ছ লাগে।' অপর এক যাত্রী লেখেন, 'বিমানটি হঠাৎ প্রচণ্ড গতিতে নামতে শুরু করে। ২০ মিনিটের মধ্যেই আমরা ৩৬ হাজার ফুট থেকে ৩ হাজার মিটারে নেমে যাই। এমন অভিজ্ঞতা যেন দুঃস্বপ্ন।'
কেউ কেউ নাকি আবার শেষ ইচ্ছাও লিখে ফেলেছিলেন বিমানে বসে। একজন তো বিমানে বসেই নিজের ব্যাঙ্ক কার্ডের পিন ও ইনস্যুরেন্সের তথ্য লিখে দিয়েছেন। জাপান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের এক রাতের থাকার ব্যবস্থা করে এবং ১৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেয়।
বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিমানের কেবিন প্রেসারাইজেশনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার জেরে এত দ্রুত উচ্চতা হারিয়েছিল বিমানটি।
উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৩৭ (Boeing 737 ) মডেলের বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে গত কয়েক বছরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু এয়ারের একটি ৭৩৭-৮০০ বিমান গত বছর দুর্ঘটনার শিকার হয়। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি একই মডেলের বিমান ২০২২ সালে ভেঙে পড়ে, নিহত হন ১৩২ জন।
সোমবারের ঘটনার পর বোয়িং-৭৩৭ এর নিরাপত্তা ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কেবলমাত্র ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়, কঠোর নজরদারি ও নিরাপদ ব্যবস্থা আরও মজবুত করাও প্রয়োজন।