আমেরিকার হামলার আগেই তেহরান ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রী ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল।

ট্রাম্পের বুক বাজিয়ে দাবির পুরোটাই ফাঁপা।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকাকে কি ইরান পুরোপুরি ধোঁকা খাইয়ে দিয়েছে? ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি ‘বিলুপ্ত’ করার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি ইজরায়েলি চর সংস্থা মোসাদের অনুমান, আমেরিকার হামলার আগেই তেহরান ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রী ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছিল। অর্থাৎ, ট্রাম্পের বুক বাজিয়ে দাবির পুরোটাই ফাঁপা। শুদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান আগে থেকেই অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছিল। সে কারণেই মার্কিন হামলার পরেও কোনও তেজষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়নি।
ইরানের যে তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে শনিবার ও রবিবারের রাতে আমেরিকার বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা আঘাত হেনেছিল, তার মধ্যে অন্যতম হল ফোরডো ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিশোধনাগার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের মুখে ইরানের নাতানৎজ, ফোরডো ও ইসফাহান কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই তিনটি কেন্দ্র পুরোপুরি বিলুপ্ত করে দিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। কিন্তু, পরে পাওয়া উপগ্রহ ছবিতে তেমন কোনও নজির পাওয়া যায়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইজরায়েলের দুই আধিকারিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আমেরিকার হানাদারির আগেই ইরান ফোরডো কেন্দ্র থেকে প্রচুর পরিমাণ ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে রেখেছিল। তাঁদের অনুমান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াবেন কিনা তা নিয়ে সময় নিতে থাকায় তারমধ্যেই তেহরান কর্তৃপক্ষ এই কাজ সেরে ফেলে। অনুমান, ফোরডো কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ কেজি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। পরমাণু বোমা বানাতে ন্যূনতম ৯০ শতাংশ পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম লাগে।
এমনকী আমেরিকা যখন হামলা চালায়, তখনই তেজষ্ক্রিয়তা ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু, ইরান জানিয়েছে ওই পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে এমন কিছু সামগ্রী ছিল না, যাতে বিকিরণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদ বলছে, পদস্থ মার্কিন আধিকারিকরা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করে নেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত কোথায় করা আছে, তা জানা নেই। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেঠ ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ ড্যান কেইসন্সের কথাতেও ট্রাম্পের ‘সম্পূর্ণ বিলুপ্ত’ করার দাবির সমর্থন মেলেনি। মার্কিন প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, ইরানের পরমাণু ঘাঁটিগুলির প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে ফোরডোই ছিল আমেরিকার নিশানার মূল লক্ষ্যবস্তু। আমেরিকার সন্দেহ, এই কেন্দ্রে একমাসের মধ্যে অন্তত ৯টি পরমাণু বোমা বানানোর মতো ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি ছিল।