দামাস্কাসের গির্জায় ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক ও সিরিয়ার (ISIS) আত্মঘাতী হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২।

সোমবার উত্তর কোরিয়া চলতি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রথম কোনও প্রতিক্রিয়া দিল।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে আমেরিকার আচমকা বোমাবর্ষণের জবাব দিতে শুরু করেছে কট্টর ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলি। দামাস্কাসের গির্জায় ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক ও সিরিয়ার (ISIS) আত্মঘাতী হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২। মৃ্ত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, জখম হয়েছেন বহু খ্রিস্টান।
এদিকে, ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষের মধ্যে আগ বাড়িয়ে নাক গলিয়ে আমেরিকার হামলার তীব্র নিন্দা করেছে পরমাণু শক্তিধর ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ দেশ উত্তর কোরিয়া। সোমবার উত্তর কোরিয়া চলতি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রথম কোনও প্রতিক্রিয়া দিল। এবং প্রথমবারেই আমেরিকা ও ইজরায়েলকে পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ভঙ্গকারী বলে নিন্দা করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে একঘরে করা উচিত বলে মনে করে শাসক কিম জং উন-এর সরকার।
ইরানের বিরুদ্ধে বহু পশ্চিমী দেশ ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সিয়া মুসলিম রাষ্ট্র ইহুদি বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অস্ত্র-রসদ সরবরাহ করে চলেছে। তার মধ্যে অন্যতম, ইরাক ও সিরিয়ার ইরানি মদতপুষ্ট জঙ্গি দল আইসিস। এছাড়াও রয়েছে, হিজবুল্লা, হুতি, হামাসের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আমেরিকার বোমারু বিমান বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মারে রবিবার গভীর রাতে। তারপর সেদিনই সন্ধ্যায় সিরিয়ার দামাস্কাসে গির্জায় আত্মঘাতী চালায় আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী।
মার্কিন হামলার আগে-পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, প্রত্যক্ষভাবে ইজরায়েলকে সাহায্য করতে এলে মোক্ষম জবাব পাবে আমেরিকা। বিশ্বের যেখানে যেখানে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা হতে পারে। কিন্তু, অনেকের ধারণা সেসব হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে কেবলমাত্র ট্রাম্পের একগুঁয়েমির মাশুল গুনতে হতে পারে আমেরিকাকে। সে কারণে, আমেরিকার ভিতরে ও বাইরে ট্রাম্প বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। হামলার পরপরই আমেরিকা সামরিক ও চর সংস্থা সিআইএ-র অনুমান ছিল, ইরাক ও সিরিয়াস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করতে পারে ইরাক ও সিরিয়া জঙ্গিরা। তারই নমুনা মিলে গেল হাতেনাতে দামাস্কাসের গির্জায় হামলায়।
ইরাকের আল-আসাদ ও আরবিল বিমানঘাঁটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি ঘাঁটিকে কয়েকশো মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে ইরাক ও সিরিয়া জুড়ে। ইরাকেই আন্তর্জাতিক শান্তি জোটের পক্ষে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মজুত রয়েছে বর্তমানে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত সিরিয়ায় অন্তত ১০০০ মার্কিন সেনা মজুত আছে।