ইরানের তিনটি ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রে সুড়ঙ্গ-বিনাশী বোমা মারার দাবির পর উপগ্রহ ছবিতে তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।

সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পরমাণু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করতে শুরু করেন।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে বিতর্ক চাগিয়ে উঠেছে। ইরানের তিনটি ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রে সুড়ঙ্গ-বিনাশী বোমা মারার দাবির পর উপগ্রহ ছবিতে তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। অনেকগুলি অ-মার্কিন সংস্থা ট্রাম্পের দাবি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিল। এমনকী ওইসব এলাকায় পরমাণু বিকিরণ কিংবা তেজষ্ক্রিয়তার কোনও চিহ্ন দেখা যায়নি বলে তাদের দাবি। সেই সব দেখে রবিবার রাতে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের দাবি করে বলেন, অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর এই নির্দিষ্ট, অব্যর্থ নিশানার তারিফ করেন ট্রাম্প।
শুরু থেকেই মার্কিন দাবি নিয়ে সংশয় দেখা যায় যে, ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তারই জবাবে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী অনেক রাতে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আজীবন মনে রাখার মতো ক্ষতি করা হয়েছে। তিনিও উপগ্রহ ছবির দৃষ্টান্ত দেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের আরও দাবি, একেবারে অব্যর্থ ভাষায় বলতে গেলে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র বিলুপ্ত করে দিয়েছে আমেরিকা।
ট্রাম্পের ভাষায়, একেবার ষাঁড়ের চোখের মতো অব্যর্থ হামলায় পাহাড়ের গভীরে সাদা রঙের কাঠামো একেবারে ধূলিসাৎ দেখা যাচ্ছে। এমনকী তার থেকেও বড় ক্ষতি হয়েছে মাটির নীচের অংশে। ছাদের অংশটিও ভেঙে পড়েছে মাটিতে। ট্রাম্প বিলুপ্ত করে দেওয়ার দাবি করলেও সরকারি ও বেসরকারি স্তরে এখনও পর্যালোচনা চলছে যে, আমেরিকার এই অপারেশনে তেহরানের সত্যিই ক্ষতি হয়েছে কতটা?
ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইরানের প্রধান তিনটি পরমাণু কেন্দ্র ফোরডে, নাতানৎজ ও ইসফাহানকে গুঁড়িয়ে দিতে। কিন্তু, হামলার পর সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পরমাণু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করতে শুরু করেন। মার্কিন বাহিনী বি-টু বোমারু বিমান থেকে জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মারে। যা সুড়ঙ্গের নীচে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারদর্শী। কিন্তু হামলার পর উপগ্রহ ছবিতে দেখা যায় ফোরডো ও নাতানৎজ পরমাণু কেন্দ্রের উপরিভাগে সামান্য গর্ত হয়েছে। ম্যাক্সার টেকনোলজি প্রয়োগে উপগ্রহ চিত্র বলছে, ফোরডোর পার্বত্য এলাকায় একটি গর্ত ছাড়া কিছু হয়নি। তাও যে সুড়ঙ্গ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা হয়, তার মুখে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এমনকী এর বাইরে একটি বিরাট বাড়ি রয়েছে, যেখান থেকে ভিতরে বাইরে বাতাস পরিশোধন করে ভিতরে ঢোকানো হয় তাও অবিকল রয়ে গিয়েছে।
একইভাবে নাতানৎজ-এর ছবি বলছে, সাড়ে ৫ মিটার চওড়া একটি গর্ত হয়েছে। সেখানেও মূল পরমাণু শোধনাগারের একেবারে উপর দিকে। যদিও মূল চুল্লি রয়েছে তারও অনেক নীচে মোটা কংক্রিট ও ইস্পাতের আবরণের তলায় সুরক্ষিত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনও পর্যন্ত সেখানে কোনও তেজষ্ক্রিয় দূষণের অথবা বিকিরণ লিক করার প্রমাণ পায়নি। সেই দিক থেকে অনেকেই ধন্দে রয়েছে, তাহলে আসলে হলটা কী?