নেতানিয়াহু আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় সাক্ষ্যদানে আপাতত তাঁকে দু-সপ্তাহের মতো অব্যাহতি দেওয়া হোক।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 June 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের কাছ থেকে সজোরে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার দেশের মাটিতেও ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় মুখ পুড়ল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। শুক্রবার জেরুজালেমের জেলা আদালত প্রধানমন্ত্রীর শেষ মুহূর্তের আর্জি নাকচ করে দিয়েছে। নেতানিয়াহু আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় সাক্ষ্যদানে আপাতত তাঁকে দু-সপ্তাহের মতো অব্যাহতি দেওয়া হোক। এদিন দেশের অ্যাটর্নি অফিস থেকে বিচারপতির কাছে আপত্তি তোলা হলে, সেই আর্জি নাকচ করে দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি রিভকা ফ্রিডম্যান-ফেল্ডম্যান বলেন, নেতানিয়াহুর পক্ষে আইনজীবী অমিত হাদাদ যে অনুরোধ দাখিল করেছিলেন, তাতে সাক্ষ্যপ্রমাণ পিছিয়ে দেওয়ার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ অথবা বিস্তারিত ভিত্তি উপস্থাপিত করতে পারেননি। উল্লেখ্য, হাদাদ গত বৃহস্পতিবার আদালতের সময় চেয়ে আর্জিতে জানিয়েছিলেন, কূটনৈতিক, জাতীয় এবং নিরাপত্তা ইস্যুই সর্বোচ্চ ও অগ্রাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
তিনি এই প্রসঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কথা তুলে জানান, এই কদিন আগেই সংঘর্ষ বিরতি হয়েছে। অতএব পরিস্থিতি বুঝে নিতে প্রধানমন্ত্রীকে খানিকটা বিরাম দিক আদালত। এই আবেদন তোলা হয় এমন এক পরিবেশে যখন শোনা যাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকা মিলে গাজা যুদ্ধ সর্বাত্মকভাবে থামানোর চুক্তির পথে এগচ্ছেন। একইসঙ্গে আরবি দেশগুলির সঙ্গেই এক মিত্রচুক্তির চেষ্টা চলছে।
নেতানিয়াহুর আর্জির জবাবে দেশের অ্যাটর্নি দফতরের তরফে দাবি করা হয়, এতে মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার মতো পোক্ত যুক্তি নেই। এর আগে ঘুষের অভিযুক্তের একই ধরনের আবেদনে সাড়া দিয়েছিল আদালত। এবং সবগুলি মামলা ধীরে চলো নীতিতে এগচ্ছিল। সপ্তাহে মাত্র দুদিন ধরে সাক্ষ্য নেওয়া চলছে বলছে বলে সরকারি আইনজীবী অনুরোধের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির মামলা চলছে। ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। যদিও নেতানিয়াহুর পাল্টা অভিযোগ, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও তাঁকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ও দেশের বিচারবিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। এই রায়ের পর ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী আদালতের ভিতরেই ক্ষোভে ফুসে ওঠেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।