২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান সা’আর। তিনি বলেন, "আমরা কখনও ভুলব না যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ছিলেন সেই প্রথম বিশ্বনেতা, যিনি ফোনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সমবেদনা জানিয়েছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক (India-Israel relations) এখন ইতিহাসের সবচেয়ে মজবুত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, এমনটাই দাবি করলেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদিওন সা’আর (Gideon Sa’ar)। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতকে 'গ্লোবাল সুপারপাওয়ার' (India global superpower) বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, "আমাদের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। ভারতের বন্ধুত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।'
সম্প্রতি তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গেও দেখা করেন। দু'জনের বৈঠকের পরই এই সাক্ষাৎকারে সা’আর বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য শীঘ্রই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে। এরই মধ্যে তেল আভিভে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম ভারত–ইজরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কার্যকরী কমিটির বৈঠক, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম।
সা’আর বলেন, “প্রতিরক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে আমরা ভালো অগ্রগতি করছি। তবে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আমাদের আগ্রহ আগের মতোই অটুট।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান সা’আর। তিনি বলেন, "আমরা কখনও ভুলব না যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ছিলেন সেই প্রথম রাষ্ট্রনেতা, যিনি ফোনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সমবেদনা জানিয়েছিলেন। ভারত আমাদের পাশে ছিল, আমরা তা চিরকাল মনে রাখব।"
গাজা সংঘাত ও শান্তি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সা’আর বলেন, সবচেয়ে জরুরি হল ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকেই একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে ধরে রাখা। তাঁর মতে, অন্য শক্তিশালী দেশগুলির হস্তক্ষেপ এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আরও যোগ করেন, ভারত এখন বিশ্বনেতা হিসেবে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ইজরায়েলি মন্ত্রী বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অর্থাৎ আলাদা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাঁর কথায়, গাজা থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত এখনও অনেক জঙ্গি গোষ্ঠী আছে যেগুলো এখনও ইরানকে সাহায্য করছে।
হামাস নিয়ে তিনি বললেন, তাদের সামরিক শক্তিকে ধ্বংস করা ও গাজায় তাদের শাসন শেষ করাই লক্ষ্য। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, হামাস দিনের আলোয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের হত্যা করে মানুষকে ভয় দেখায়, এই সন্ত্রাসী শাসন তাঁরা শেষ করবেনই।
সবশেষে তিনি বলেন, এমন অশান্ত পরিস্থিতিতেও ভারত ও ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে একে অপরের পাশে আছে- প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে। আগামী দিনেও এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে চান বলেই বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রী।