রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনার উপর বাণিজ্যিক অবরোধের আঁচে সেঁকতে হবে দ্রব্যমূল্যের রুটি।

আপাতত জাহাজটি ডেনমার্ক ও জার্মানির মধ্যবর্তী ফেহমার্ন বেল্ট স্ট্রেইট-এর দিকে পুরো ইউ-টার্ন নিয়ে নিয়েছে।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ছিল ওয়াশিংটন, মস্কো ও নয়াদিল্লির চু-কিতকিত খেলা। কিন্তু এবার ছুঁচোবাজি হয়ে সরাসরি ঢুকে পড়তে চলেছে দেশের হেঁসেলঘরেও। রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনার উপর বাণিজ্যিক অবরোধের আঁচে সেঁকতে হবে দ্রব্যমূল্যের রুটি। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ভারত মঞ্চে অভিনয় চালিয়ে গেলেও, অন্তঃপুর থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সুতরাং, তার নিশ্চিত প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে।
রাশিয়া থেকে অতি সস্তায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হতে বসায়, দেশীয় বাজারে তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, সামনে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কারণে গলার কাঁটা গলাতেই আটকে রেখে ঢোঁক গিলে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই মুহূর্তে তেল-গ্যাসের দাম বাড়লে হু-হু করে বেড়ে যাবে বাজারদর। আর জিএসটি কাঠামো বদলের গ্যাস বেলুন একেবার ফুস হয়ে যাবে।
রাশিয়ার বৃহৎ অপরিশোধিত তেলের জাহাজ ফিউরিয়া, যাতে উরালের ৭৩০,০০০ ব্যারেল তেল রয়েছে, সেটি আসছিল গুজরাতের সিক্কা বন্দরে। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর থেকে বাল্টিক সাগরে সেটি থমকে দাঁড়িয়ে রয়েছে রুশ অবরোধের জেরে। একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আপাতত জাহাজটি ডেনমার্ক ও জার্মানির মধ্যবর্তী ফেহমার্ন বেল্ট স্ট্রেইট-এর দিকে পুরো ইউ-টার্ন নিয়ে নিয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাককারী দুটি সংস্থা জানিয়েছে, ওটি এখনও ওই এলাকায় থাকলেও ভারতের দিকে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ রুশ রোজনেফট সংস্থা এবং জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনের কালো তালিকাভুক্ত রয়েছে। ট্র্যাকিং সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া-ভারত তেল বাণিজ্য এর ফলে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরেকটি সংবাদমাধ্যমের খবর হচ্ছে, গত ২২ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন রোজনেফট এবং লুকওয়েল সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই অবরোধের ফলে ভারতে জ্বালানি বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করবে আগামী ২১ নভেম্বর থেকে। ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন জানিয়ে দিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক নিয়মবিধি মেনে চলতে বাধ্য। তেল সংশোধনাগারের পদস্থ কর্তারা জানান, রাশিয়ার তেল থেকে যে রাজস্ব বাঁচত তা কমবেই।
সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ অক্টোবরে সপ্তাহে রাশিয়া থেকে কেবলমাত্র ১.১৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে এসেছে। যেখানে তার দুসপ্তাহ আগেও দিনপ্রতি ১.৯৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আসত।