রবিবার মুম্বইয়ের স্টেডিয়ামে ২০০৫ ও ২০১৭ সালের হৃদয় ভেঙে দেওয়া ব্যর্থতার শোধ তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল।

ছুঁয়ে ফেললেন একদা একই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ ও বাংলার ঝুলন গোস্বামীদের অসমাপ্ত কাজের শিখর।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভদ্রলোকের খেলা’র ক্রিকেট ইতিহাসে নাম লিখিয়ে দিয়েছে মেয়েদের ভারতীয় দল। রবিবার মুম্বইয়ের স্টেডিয়ামে ২০০৫ ও ২০১৭ সালের হৃদয় ভেঙে দেওয়া ব্যর্থতার শোধ তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। লাগাতার চেষ্টার পর দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারীরা ছুঁয়ে ফেললেন একদা একই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ ও বাংলার ঝুলন গোস্বামীদের অসমাপ্ত কাজের শিখর। দুজনে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তাঁদের উত্তরসূরিদের।
মাঠে সত্যিকারের বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারলেও তাঁরাই হরমনপ্রীত, জেমাইমা, স্মৃতি মান্ধানাদের পথিকৃৎ। কিন্তু, এই উজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টিকারী ক্রিকেটারদের জীবনী চলচ্চিত্রের দুর্দশাই প্রমাণ করে দেয়, জেন জি আমলেও এদেশে নারীর স্থান কোথায়! জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে, মিতালি রাজকে নিয়ে তৈরি জীবনী চিত্র ‘সাবাশ মিতু’র সুপারডুপার ফ্লপ হওয়া এবং এক সময়কার দ্রুততম বোলার ঝুলনের জীবনী চিত্র ‘চাকদা এক্সপ্রেসের’ বছরের পর বছর মুক্তি না পাওয়া।
৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ের পর রণবীর সিং অভিনীত কপিল দেবকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল এইটটি থ্রি বা ৮৩ সিনেমা। সচিন তেণ্ডুলকরকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকু-ফিচার সচিন আ বিলিয়ন ড্রিমস। মহেন্দ্র সিং ধোনির চরিত্রে এমএস ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। কিন্তু, সাবাশ মিতুতে তাপসী পান্নু অসাধারণ অভিনয় করলেও সেই ছবি দর্শকদের কাছে সাবাশি পায়নি। যেমন- ঝুলন গোস্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আরেক ক্রিকেটার বিরাট কোহলির স্ত্রী, তথা ক্রিকেটের মস্ত ভক্ত অনুষ্কা শর্মা। সেই চাকদা এক্সপ্রেস এখনও মুক্তির আলোই দেখতে পায়নি। কেন, শুধুমাত্র কি বিশ্বকাপে হারার ব্যর্থতার কারণেই! নাকি পুরুষ সমাজ তাঁদের সমকক্ষ বলে মানতে নারাজ বলে।
অনেক ঝড়ঝাপটা সামলে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সাবাশ মিতু মুক্তি পেয়েছিল ২০২২ সালে। কিন্তু তাপসী পান্নুর ওই ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ৪৮ কোটি টাকা খরচ করা ছবি অনেক কষ্টেসৃষ্টে রোজগার করেছিল ২.৮৯ কোটি টাকা। বাজেটের ১০ ভাগের একভাগেরও কম। ভারতীয় ক্রিকেটে আরেক নক্ষত্র ঝুলন গোস্বামীর জীবনী চিত্র মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তার পরের বছরেই, ২০২৩ সালে। কিন্তু, সেই ছবি আজও দিনের আলো দেখেনি।
সাবাশ মিতুর মতোই চাকদা এক্সপ্রেসের পরিচালকও একজন বাঙালি। নাম প্রসিত রায়। প্রযোজক অনুষ্কা শর্মার ভাই কর্ণেশ শর্মার ক্লিন স্লেট ফিল্মজ। এখানে ঝুলনের ভূমিকায় ছিলেন অনুষ্কা শর্মা। দীর্ঘদিন ঝুলনের কাছে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন, শ্যুটিং হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্স, ময়দানে। জানা যায়, ছবির শ্যুটিং পর্ব শেষও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, তারপর কেন মুক্তি পায়নি, তা সকলের অজানা।
২০১৯ সালে চাকদা এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা হয়। প্রাথমিক খসড়া ও স্ক্রিপ্ট তৈরির পর শ্যুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। কিন্তু কোভিড-১৯ চলে আসায় কাজ থমকে যায়। অনুষ্কা নিজেকে গর্ভবতী বলার পর কোভিডের মধ্যেই আরেকজন প্রযোজক এই ছবি থেকে হাত গুটিয়ে নেন। এরপর নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া ও ক্লিন স্লেট ফিল্মজ চাকদা এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ করার কথা ঠিক করে।
২০২২ সালে ৬ মাসের মধ্যে শ্যুটিং শেষ হয়েছিল। নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া জানিয়ে দেয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে রিলিজ করবে চাকদা এক্সপ্রেস। কিন্তু, তারপরেও মসৃণ পিচে ফাটল ধরে দুই প্রযোজক সংস্থার মধ্যে। ফিল্মের পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ যখন পুরোদমে চলছিল, তখন হঠাৎই সম্পর্ক ভেঙে যায় নেটফ্লিক্স ও ক্লিন স্লেটের। এখন যা অবস্থা ক্লিন স্লেট ফিল্মজকে চাকদা এক্সপ্রেসকে কাউকে বেচে দেওয়া ছাড়া বিকল্প রাস্তা নেই। তবে যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকদা এক্সপ্রেস দিনের আলোর মুখ দেখে, তো এটাই হবে অনুষ্কা শর্মার সাত বছর পর বড় পর্দায় উপস্থিতি। বড় পর্দায় তাঁর শেষ ছবি ছিল ২০১৮ সালে রিলিজ করা আনন্দ এল রাইয়ের জিরো।