তাঁর কথায়, পাকিস্তানও নাকি একই পথে হাঁটছে এবং এই পরিস্থিতিতেই তিনি আমেরিকাকে আবার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৩৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা সেই প্রক্রিয়া ফের শুরু হলে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 3 November 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তিনি বলেন, চিন (China) এবং পাকিস্তান (Pakistan) নাকি গোপনে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করছে। শুধু তাই নয়, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকেও এই তালিকায় রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর এই দাবি ঘিরেই ফের তীব্রতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। কারণ, ভারতের ঠিক দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সরাসরি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয় নয়াদিল্লির জন্য।
ট্রাম্প দাবি করেন, “রাশিয়া (Russia) পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করছে, চিনও করছে। শুধু তারা তা প্রকাশ্যে বলে না। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ, আমরা বলি। ওদের দেশে সাংবাদিকতা নেই।" তাঁর কথায়, পাকিস্তানও নাকি একই পথে হাঁটছে এবং এই পরিস্থিতিতেই তিনি আমেরিকাকে আবার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৩৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা সেই প্রক্রিয়া ফের শুরু হলে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
সাক্ষাৎকারে আবারও সেই বিতর্কিত দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President)। তাঁর কথায়, ২০২৪ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে পরিস্থিতি (India Pakistan Conflict) এতটাই গুরুতর ছিল যে দু’দেশ নাকি পরমাণু সংঘাতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছিল এবং তিনি হস্তক্ষেপ না করলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হত। বাণিজ্য এবং নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েই নাকি পরিস্থিতি ঠান্ডা করেন তিনি।
ভারতের অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট। জানানো হয়েছে, দিল্লি ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ নীতি মেনে চলে। ১৯৯৮-এর পর থেকে আর কোনও পরমাণু পরীক্ষা (Nuclear Testing) হয়নি দেশে। বর্তমানে ভারতের হাতে আনুমানিক ১৮০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি। পাকিস্তানের সংখ্যা প্রায় সমান, তবে চিন তার বহু গুণ এগিয়ে - প্রায় ৬০০ ওয়ারহেডের মালিক তারা এবং আগামী বছরগুলিতে তা হাজারে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান।
এর মধ্যে আবার ১৯৯৮-এর পোখরান-২ পরীক্ষা (Pokhran Testing) নিয়ে পুরনো বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে। তৎকালীন প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী কে সন্থানাম বলেছিলেন, ভারতের হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ প্রত্যাশিত শক্তি পায়নি। সেই বিতর্ক এখনও থামেনি।
ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে - বিশ্ব কি ফের পারমাণবিক প্রতিযোগিতার অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরছে? আর সত্যিই যদি চিন-পাক গোপনে পরীক্ষা চালায়, তাহলে কি ভারতও পোখরান-৩-এর পথে হাঁটবে?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নজরে রাখা ছাড়া উপায় নেই। তবে একথা স্পষ্ট, বৈশ্বিক নিরাপত্তা মানচিত্রে উত্তাপ বাড়া যে এখন সময়ের অপেক্ষা, ট্রাম্পের মন্তব্য সেই ইঙ্গিতই দিল।
এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর সারা বিশ্বের।