ইরানের রকেট হামলায় ২০০ ইজরায়েলি নিহতের দাবি আইআরজিসির। হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের, বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 March 2026 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের আরাদ শহরে ইরানের হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর সরকারের তরফে কেউ প্রতিক্রিয়া দেননি।
তবে একদিন আগে সুর নরম করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের গলা চড়িয়েছেন। ইরানকে বিদ্যুৎহীন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের রাস্তা খুলে না দিলে চরম মূল্য দিতে হবে তেহরানকে।
এর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তারা বলেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে ইজরায়েল এবং আরব দুনিয়ায় মার্কিন মিত্র দেশগুলির পানীয় জল শোধনাগার ধ্বংস করে দেবে তারা। অর্থাৎ দু পক্ষই এখন সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করে যুদ্ধ জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে শুধু আরাদ নয়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলের ডিমোনা, ইলাত, বিরশেবা ও কিরিয়াত শহরেও। সব মিলিয়ে আনুমানিক দুশো মানুষ ওই হামলায় মারা গিয়েছে। যদিও ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী এবং সরকার এখনও পর্যন্ত ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
ইজরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন করে সুর চড়ানো নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ২৪ ঘন্টা আগেই ট্রাম্প আভাস দিয়েছিলেন তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ গুটিয়ে আনতে চান। তবে আরব দুনিয়ায় মিত্র দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে শক্তিশালী করতে বাড়তি সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে মার্কিন প্রশাসন।
ভারতীয় সময় শনিবার বেশি রাতে সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুর বদলে ফের ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের অবস্থান বদলের ফলে আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘোরানো হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ইরানের একটি প্রাকৃতিক তেল ভান্ডারে ইজরায়েলের হামলার পর প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছিলেন ওই হামলা সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসন অবহিত ছিল না। ওই হামলার জবাবে ইরান মার্কিন মিত্র দেশ কাতারে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভান্ডারে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় তার ধাক্কা গিয়ে পরে মার্কিন অর্থনীতিতে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের কাছাকাছি গেলে দ্রুত যুদ্ধ থামানোর বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ইজরায়েলের উপর ইরানের উপর্যুপরি হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান বদল করতে বাধ্য হলেন বলে মনে করা হচ্ছে।