ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শহরে আঘাত হানে, যা আল-আকসা মসজিদ (Al-Aqsa mosque) থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে গিয়ে পড়ে।

জেরুজালেমে ইরানি হামলার জেরে বন্ধ মসজিদ
শেষ আপডেট: 21 March 2026 22:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদের (Eid 2026) সকাল যখন সারা বিশ্বের মুসলিমরা আনন্দ আর প্রার্থনায় মসজিদের সামনে এক হয়- সেই সময় জেরুজালেমে তৈরি হল গভীর বেদনার মুহূর্ত (Iranian missile struck Jerusalem )। আল-আকসা মসজিদে (Al Aqsa Mosque) নামাজ পড়ার আশায় হাজারো মানুষ দরজার সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু সেই পবিত্র দরজাগুলো আজ তাদের জন্য বন্ধ। মাথার ওপর দিয়ে ছুটে যাওয়া ইরানের মিসাইল (Iranian missile struck) আর বিস্ফোরণের শব্দ যেন ইদের খুশি কেড়ে নিল এক নিমেষে।
শনিবার সকালে জেরুজালেমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হল যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শহরে আঘাত হানে, যা আল-আকসা মসজিদ (Al-Aqsa mosque) থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। ঘটনাটির কারণে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় পুরনো শহর বা ওল্ড সিটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে শত শত মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়েই ইদের নামাজ পড়তে হয়। গবেষকদের মতে, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম সংযুক্তির পর এই প্রথম ইদের দিন আল-আকসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হল।
এদিন ইজরায়েল জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ওল্ড সিটিতে আঘাত হানে, বিশ্বের তিনটি ধর্মের- ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র স্থানের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রক এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছে, “ইদের দিনে ইরানের একটি মিসাইল জেরুজালেমে এসে পড়ে, মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের পবিত্র স্থান থেকে কয়েকশো মিটার দূরে। এটাই ইরানের তথাকথিত ধর্মীয় শাসনের আসল মুখ।”
শুক্রবার বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওল্ড সিটির ভেতরে একটি পাহাড়ি ঢালে গভীর গর্ত তৈরি হয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে যায় ধ্বংসাবশেষ। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, বিস্ফোরণ ঘটে টেম্পল মাউন্টের (হারাম আল-শরিফ) খুব কাছে। তাদের বক্তব্য, ইরান নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে, লক্ষ্যবস্তু বেছে নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও পবিত্র স্থানের দিকেই এটি ছোড়া হয়েছে।
এদিকে, প্রবল নিরাপত্তা উৎকণ্ঠার কারণে আল-আকসা মসজিদের (Al-Aqsa mosque) সব দরজা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফলে বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইদের নামাজ পড়তে হয় সকলকে। ষাটোর্ধ্ব একজন ফিলিস্তিনি, ওয়াজদি মুহাম্মদ শুইকি বলেন, “আজ আল-আকসা আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ এক দুঃখের, বেদনাময় রমজান।”
তিনি আরও বলেন, “জেরুজালেমের মানুষের জন্য, ফিলিস্তিনিদের জন্য, আর সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত হতাশাজনক।”
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে। এর জেরে জেরুজালেমের তিনটি ধর্মীয় স্থাপনা - মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ, খ্রিস্টানদের চার্চ অব দ্য হলি সেপালকার এবং ইহুদিদের ওয়েস্টার্ন ওয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের শেষ দশ দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের মতো সময়ে আল-আকসা বন্ধ থাকা ইতিহাসে নজিরবিহীন।