মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনাই চলছে এবং তিনি স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠাতে চান না। তবু এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন সেনা মোতায়েনের উদ্দেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সামরিক বিকল্পের পরিসর বাড়ানো।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেইনি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East War) ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহে আমেরিকাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল ইরান (US Iran Conflict)। দেশের ইংরেজি দৈনিক তেহরান টাইমস (Tehran Times)-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত শিরোনাম - Welcome to Hell ইঙ্গিত দিচ্ছে সংঘাতের ভয়াবহ সম্ভাবনার দিকে। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, কোনও মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে পা রাখলে তারা কফিনে করেই ফিরবে!
এই কড়া বার্তার পটভূমিতে রয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক রিপোর্ট। জানা গিয়েছে, আরব দুনিয়ায় অতিরিক্ত ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এই সম্ভাবনা ঘিরেই জল্পনা বাড়ছে, তবে কি ইরানের মাটিতে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা?
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনাই চলছে এবং তিনি স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠাতে চান না। তবু এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন সেনা মোতায়েনের উদ্দেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সামরিক বিকল্পের পরিসর বাড়ানো। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার ও মেরিন মোতায়েন রয়েছে।

ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, আমেরিকা যদি স্থল আক্রমণ চালায়, তা হলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সক্রিয় করা হবে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে নতুন করে হামলা শুরু করতে। এর ফলে যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা।
অতিরিক্ত মার্কিন সেনা কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উপকূলের কাছাকাছি খার্গ দ্বীপ—যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র—তার নাগালের মধ্যেই সেনা রাখা হতে পারে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, যুদ্ধ থামাতে আলোচনা “খুব ভালভাবেই এগোচ্ছে।”
অন্যদিকে, মাটিতে সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। শুক্রবার ভোরে তেহরানের কেন্দ্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় বড়সড় হামলার দাবি করেছে ইজরায়েল। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা চালানো হয়, যা হিজবুল্লার ঘাঁটি বলে দাবি ইজরায়েলের। পাল্টা হিজবুল্লা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সরাসরি ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের বাহিনী।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আশ্বাস আর সামরিক প্রস্তুতির দ্বৈত সুরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।