ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ করিডর এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার সরাসরি চাপ পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে (global oil market crisis)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তেলের দাম ব্যারেলপিছু ২০০ ডলার পর্যন্ত ছুঁতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান (200 dollar oil barrel Iran warning)।
ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ করিডর এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে (Strait of Hormuz oil supply crisis)। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে।
‘২০০ ডলারের তেলের জন্য প্রস্তুত থাকুন’
ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারকে বড় মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তেলের দাম ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ তেলের দাম নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর, আর সেই নিরাপত্তাকেই আপনারা অস্থির করে তুলেছেন।”
হামলার কৌশল বদলের হুমকি
শুধু তেলের বাজার নয়, সামরিক দিক থেকেও পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
ইব্রাহিম জোলফাকারির সাফ হুঁশিয়ারি, এতদিন ইরান সীমিত মাত্রার “প্রতিশোধমূলক হামলা” চালাচ্ছিল। কিন্তু এখন তারা ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ও আরও কঠোর আক্রমণ শুরু করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে বাড়ছে হামলা
এই সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ হয়। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।
মিসাইল, ড্রোন এবং নৌ হামলার কারণে এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
জাহাজে হামলা, কার্যত অবরুদ্ধ সমুদ্রপথ
হরমুজ প্রণালীতে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় কার্যত এই পথ অবরুদ্ধ অবস্থার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর এক দাবিকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
নিখোঁজ নাবিক, উদ্বেগে শিপিং সংস্থা
এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের এক পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় এখনও তিন জন নাবিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডের পরিবহণ মন্ত্রক।
ক্রমশ খারাপ হতে থাকা নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং সংস্থাগুলি এখন জাহাজের পথ পরিবর্তন করা বা যাত্রা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আটকে শতাধিক তেলবাহী জাহাজ
বীমা সংস্থা এবং জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করায় বহু জাহাজ এখন হরমুজ প্রণালীর আশপাশের জলে নোঙর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পার হওয়ার ঝুঁকি নিতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে এবং জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।