আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেল ছাড়ার (Japan oil reserves release) পরিমাণ, সময়সূচি এবং কীভাবে তা বাজারে পৌঁছবে - এই সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে বলে সরকার সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

অতিরিক্ত সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতির আশঙ্কা কমাবে
শেষ আপডেট: 11 March 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East tension) জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল জাপান। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে তেলের সরবরাহে সম্ভাব্য বাধা (Iran conflict oil market) ঠেকাতে নিজেদের কৌশলগত তেলভান্ডারের (strategic oil reserves) একাংশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল টোকিও (Japan oil reserves release)।
বুধবার রাজধানী টোকিওতে হওয়া সাংবাদিক বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায় তাকাইচি জানান, মার্চের ১৬ তারিখ থেকেই তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কতটা তেল ছাড়া হবে?
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপান বেসরকারি খাতের কাছে থাকা তেল মজুতের প্রায় ১৫ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি সরকারি কৌশলগত তেলভান্ডার থেকেও এক মাসের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হবে।
সরকারের আশা, এই অতিরিক্ত সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতির আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করবে।
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, চাপ বাড়ছে জ্বালানি বাজারে
আরব দুনিয়ায় বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জেরেই বিশ্ব জুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে আরব দুনিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের চালানে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এই কারণেই বেশি পরিমাণে জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে জরুরি পদক্ষেপ কীভাবে করা হবে। জাপানের এই সিদ্ধান্ত সেই আলোচনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কী এই কৌশলগত তেলভান্ডার?
বিশ্বের বহু দেশই নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে স্ট্র্যাটেজিক অয়েল রিজার্ভ বা কৌশলগত তেলভান্ডার তৈরি করে রাখে। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ সরবরাহ কমে গেলে বা কোনও ভূরাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হলে সেই ভান্ডার থেকেই তেল বাজারে ছাড়া হয়।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ বা পরিবহণে বিঘ্ন - এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাতে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়।
জাপানের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাপান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। নিজেদের দেশে তেলের উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত হওয়ায়, জ্বালানির জন্য বিদেশের উপরই নির্ভর করতে হয় টোকিওকে। তার মধ্যে আবার জাপানের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই আসে আরব দুনিয়া থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে জাপান সরকার নিয়মিত নজরদারি চালায়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, তেলভান্ডার থেকে তেল ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত আসলে বৃহত্তর জরুরি পরিকল্পনারই অংশ। লক্ষ্য একটাই, দেশের ঘরোয়া বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্প-বাণিজ্য থেকে সাধারণ মানুষের জ্বালানির চাহিদা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেল ছাড়ার পরিমাণ, সময়সূচি এবং কীভাবে তা বাজারে পৌঁছবে - এই সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে বলে সরকার সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।