সূত্রের দাবি, “যদি শত্রুপক্ষ দক্ষিণ ইরানে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এমন নতুন ফ্রন্ট খোলা হতে পারে যা তাদের চমকে দেবে।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী
শেষ আপডেট: 26 March 2026 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা যদি ইরানের উপর সামরিক চাপ আরও বাড়ায় (Iran US tensions), তাহলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথকে লক্ষ্য করে (global shipping disruption) “নতুন চমকপ্রদ ফ্রন্ট” খুলে দেওয়া হতে পারে, এমনই হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। Tasnim News Agency-কে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বাব এল-মান্দেব (Bab al-Mandab Strait)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি করা হতে পারে (Bab al-Mandab Strait Iran threat)।
সেই সূত্রের দাবি, “যদি শত্রুপক্ষ দক্ষিণ ইরানে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এমন নতুন ফ্রন্ট খোলা হতে পারে যা তাদের চমকে দেবে।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। সেই সংঘাতের আবহেই এই নতুন সতর্কবার্তা সামনে এল।
বাব এল-মান্দেব: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত আরও বাড়লে বাব এল-মান্দেব প্রণালী একটি বড় সংঘর্ষকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই জলপথটি ভারত মহাসাগর (Indian Ocean)-কে লোহিত সাগর (Red Sea)-এর সঙ্গে যুক্ত করে, এবং সেখান থেকে সুয়েজ ক্যানেল (Suez Canal) হয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপন করে।
ইরানের ওই সামরিক সূত্রের দাবি, “বাব এল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী, এবং এটিকে ঘিরে বিশ্বাসযোগ্য হুমকি তৈরি করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা - দুটোই ইরানের রয়েছে।”
একইসঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, হরমুজ নিয়ে যদি আমেরিকা কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতেও পাল্টা চাপ তৈরি করা হতে পারে। সূত্রের কথায়, “হরমুজ নিয়ে যদি আমেরিকা বোকামি করে, তাহলে আরও একটি প্রণালী তাদের সমস্যার তালিকায় যুক্ত হতে পারে।”
বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা
AFP সূত্রে জানা গিয়েছে, যদি আমেরিকা স্থল আক্রমণের পথে হাঁটে, তাহলে লোহিত সাগরের (Red Sea) জাহাজ চলাচলের পথও টার্গেট হতে পারে। অর্থাৎ, একাধিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে একযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে।
ইরান জানিয়েছে, তারা প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে উত্তেজনা আরও বাড়াতে প্রস্তুত। দক্ষিণ ইরান বা আশপাশের জলসীমায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
সামরিক সূত্রের স্পষ্ট বার্তা, পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরে নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইরানের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা হলে পাল্টা এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা সংঘাতকে আরও ছড়িয়ে দেবে। “শত্রুপক্ষ যদি আমাদের দ্বীপ বা ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তাহলে আমরা নতুন ফ্রন্ট খুলে দেব, যাতে তাদের খরচ দ্বিগুণ হয়,” বলা হয়েছে।
হরমুজ সংকট ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা
বর্তমানে হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয়। মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যাতায়াত কার্যত বাধাগ্রস্ত করেছে ইরান। এর জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমী দেশগুলি সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখার উপায় খুঁজছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি লোহিত সাগরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে আগেও বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেও পুরোপুরি সাফল্য মেলেনি।
Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এই ধরনের নিরাপত্তা অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও চারটি জাহাজ ডুবে যায়। ফলে বহু শিপিং সংস্থা এখনও সেই পথ এড়িয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের উন্নত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উপকূলজুড়ে বসানো মাইন - এই সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
আসালুয়ে প্রসঙ্গ ও সংঘাতের বিস্তার
ইরানের সামরিক সূত্র দক্ষিণ ইরানের আসালুয়ে-এ সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইজরায়েলের হামলার প্রসঙ্গও টেনে এনেছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। “শত্রুপক্ষ যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয়, তাহলে তারা আবার আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারে, যেমনটি তারা আসালুয়ে ঘটনায় করেছিল,” মন্তব্য ওই সূত্রের।
সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ইজরায়েল ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হিসেবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য ইজরায়েলি ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ফলে সংঘাতের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে।