ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ভারত এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে জোর দিচ্ছে।

শেষ আপডেট: 23 March 2026 20:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সম্ভাব্য হামলা আপাতত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। তারপরই নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য দেওয়া সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এই হরমুজ প্রণালীই পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার উপর নির্ভর করে বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ।
তবে নির্দিষ্ট কোনও বিস্তারিত না দিলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে “গঠনমূলক আলোচনা” চলছে, যার লক্ষ্য পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাতের “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান”।
ভারতের অবস্থান: নজর, যোগাযোগ ও শান্তির বার্তা
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এই সমস্ত ঘটনাবলির উপর কড়া নজর রাখছি।”
তিনি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ভারত এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে জোর দিচ্ছে।
জয়সওয়াল বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার চলতি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলছেন।”
সব মিলিয়ে, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের এই সংবেদনশীল পর্যায়ে ভারত একদিকে যেমন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে, তেমনই কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকে শান্তির পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত আজই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে বার্তা দিতে হবে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাত (Middle East Tensions) বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলও উদ্যোগী।
বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে থাকা ভারতীয়দের পাশে দাঁড়াতে সব রকম কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব যে দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রেও পড়ছে, সে কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। দেশের প্রয়োজনের বড় অংশ তরল রান্নার গ্যাস আমদানির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সমস্যা কমাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।