Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

চিনের দুই বন্ধুকে পর পর দু’মাসে তুলে নিল আমেরিকা, তবুও নীরব কেন বেজিং, কী হিসাব কষছেন জিনপিং

ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার ও ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ঘটনায় আমেরিকার ভূমিকা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়। অথচ দীর্ঘদিনের মিত্রদের এই বিপর্যয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি সক্রিয় নয় বেজিং। কেন নীরব চিন, কী কৌশল শি জিনপিংয়ের?

চিনের দুই বন্ধুকে পর পর দু’মাসে তুলে নিল আমেরিকা, তবুও নীরব কেন বেজিং, কী হিসাব কষছেন জিনপিং

ছবি: দ্য ওয়াল

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 5 March 2026 10:10

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে একের পর এক নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে। যা দেখে অনেকেই হয়তো হতভম্ব। আজ যারা গলায় কাল তারাই একে অপরের বিপদে নেই। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মার্কিং অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন চিনের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু—ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে রাখা হয়েছে ডিটেনশন সেন্টারে। অন্যদিকে তেহরানে কেন্দ্রে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনেই। তাঁর মরদেহ দফন করার তোড়জোর চলছে মাশহাদে। 

অথচ পরম মিত্রর এই দুর্দিনে শি জিনপিং দৃশ্যতই নীরব দর্শকের। বেজিংয়ের এমন কাণ্ড ভাবাতে শুরু করেছে অনেককেই। রহসট্যা কী?

চিন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, কোনও দেশের সার্বভৌম নেতাকে হত্যা বা অপসারণ করা আন্তর্জাতিক নিয়ম-বিরুদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেজিং কূটনৈতিক বক্তব্যের বাইরে খুব বেশি সক্রিয় পদক্ষেপ করেনি।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অনেকের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে চিনের ঠান্ডা মাথার বাস্তববাদী কূটনীতি এবং বৃহত্তর কৌশলগত হিসাব। প্রশ্ন হল, কেমনতর সেই হিসাব আর কীইবা তাদের কৌশল?

ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো ও আয়াতোল্লা খামেইনি- দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে চীনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওয়াশিংটনের একটি থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের বিশ্লেষক ক্রেগ সিঙ্গলটনের মতে,“চিন ‘ফেয়ার-ওয়েদার ফ্রেন্ড’ ফর্মুলায় বিশ্বেস করে। অর্থাৎ ভাল সময়ের বন্ধু। কিন্তু ঝুঁকি নিতে চায় না।”

কূটনীতিকদের অনেকেই সিঙ্গলটনের সঙ্গে সহমত। তাঁদের মতে, শি জিনপিংয়ের বড় অগ্রাধিকার হল আমেরিকার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক। এবং চিনের এই সংযত প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে বড় কারণই হল আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের সেই স্থিতিশীলতা অটুট রাখা। এই মাসের শেষেই বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না চিন।

বেলজিয়ামের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াংয়ের মতে, চিন মনে করে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমানে ইরান ইস্যুর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতই রাষ্ট্রপুঞ্জে পোশাকি অসন্তোষ জানিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছে।

তা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু অনেকেই ঠাওর করতে পারছেন না ইরান বিপাকে পড়লে তো চিনেরও মঙ্গল নয়। তার পরেও বেজিং ঘাপটি মেরে আছে কেন? এটা ঠিক যে চিন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তাছাড়া বেজিং দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতাও করেছে। কিন্তু অর্থনীতি ও কৌশলগত সহযোগিতার দিক থেকে চিনের কাছে পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশ—বিশেষ করে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির গুরুত্ব অনেক বেশি।

চিন গত কয়েক বছরে পশ্চিম এশিয়ায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি গড়ে তুলতে চেয়েছে। ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতাও করেছিল বেজিং।

সাউথ ব্লকের এক কূটনীতিকের কথায়, চীনের কূটনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল—তারা সাধারণত কোনও দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব নেয় না। তা ছাড়া আফগানিস্তান ও ইরাকের অভিজ্ঞতা চিনকে সতর্ক করে দিয়েছে। তাই তারা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না।

তবে এও ঠিক যে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন শক্তি-সমীকরণ তৈরি হয়েছে। চিন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালে বেজিংয়ে একটি বড় সামরিক কুচকাওয়াজে এই চার দেশের নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চিন-রাশিয়া-ইরান যৌথ সামরিক মহড়াও হয়েছে একাধিকবার। তাই অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই জোট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

কিছু চিনা বিশ্লেষক আবার মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার গভীর সামরিক সম্পৃক্ততা বেজিংয়ের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ এতে আমেরিকার সামরিক ও কৌশলগত মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে কিছুটা সরে যেতে পারে। ওই অঞ্চলেই চিন ও আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বেশি।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চিনের জন্য পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে—ইরানের প্রায় সব তেল রপ্তানিই চিনে যায়। সমুদ্রপথে আমদানি করা চিনের তেলের প্রায় ১৩% আসে ইরান থেকে। তার থেকেও বড় বিষয় হল হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের তেল এই পথ দিয়েই বিশ্বে পৌঁছায়। আর চিনের মোট তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসে এই অঞ্চল থেকে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এক উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন—প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলা করা হতে পারে। এর ফলে ইতিমধ্যেই অনেক তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে চিনসহ বিশ্বের বহু দেশের জ্বালানি সরবরাহ বড় ধাক্কা খেতে পারে।

চিন অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে তেলের মজুত বাড়িয়ে রেখেছে। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১১৫ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। তাছাড়া প্রয়োজনে রাশিয়া বা অন্য উৎস থেকেও তেল আমদানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, চিন এখন এই ঘটনাকে ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে। তারা বলতে চাইবে—আমেরিকা বিশ্বে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, কিন্তু চিন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এই বার্তা বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরান সংকটে চিনের সীমিত ভূমিকা একটি নতুন প্রশ্ন তুলেছে—সংকটের সময় চিন কি তার মিত্রদের পাশে দাঁড়ায় না? বিশেষ করে দূরের দেশগুলির ক্ষেত্রে—যেমন ইরান বা ভেনেজুয়েলা—চিন কতটা নির্ভরযোগ্য অংশীদার, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।


```