গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে আমেরিকা ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 March 2026 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East Tension) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ বাড়ছে হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali)। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথে (Strait of Hormuz) নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে ইরান (Iran)। দেশটি জানিয়েছে, এখন থেকে কিছু বিদেশি জাহাজকে এই জলপথ পার হতে ২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা) টোল দিতে হবে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এটি ইরানের নতুন নীতি, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সংসদের নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলায়েদ্দিন বরোজেরদি (Alaeddin Boroujerdi)। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে আইআরআইবি (Islamic Republic of Iran Broadcasting), যা প্রথম প্রকাশ করে ইরান ইন্টারন্যাশনাল (Iran International)।
আলায়েদ্দিন বরোজেরদি জানান, বহু বছর পর ইরান এই প্রণালীতে নতুন সার্বভৌম নীতি প্রয়োগ করছে। তাঁর দাবি, টোল আরোপ ইরানের শক্তির প্রতীক। যুদ্ধের খরচ বাড়ায় এমন টোল নেওয়া এখন জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের জবাব
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে আমেরিকা ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এর পরই ইরানের তরফেও হুমকি আসে যে, ইজরায়েলের জ্বালানি পরিকাঠামোও ইরানের নাগালে রয়েছে এবং চাইলে একদিনেই ধ্বংস করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, হরমুজ প্রণালী সকল দেশের জন্য খোলা, তবে যারা ইরানের বিরোধী বা শত্রু, তাদের জন্য এই ছাড় নয়। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তিনি 'ভ্রম' বলে উল্লেখ করে বলেন, এমন হুমকি ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি
ইরান জানিয়েছে, যদি আমেরিকা (America) ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে হরমুজের রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে ইরান কার্যত এই বাণিজ্যিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করার মরিয়া চেষ্টায় রয়েছে, তবে তারা এও বলছে যে 'শত্রু' দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ থাকবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণে গুরুতর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘনীভূত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
যদিও ইতিমধ্যেই হরমুজ হয়েই ভারতে (India Oil Import) এসেছে একাধিক তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ। তেহরানের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ভাল। বন্ধুত্বের খাতিরেই ভারতকে এই ছাড় দিয়েছে ইরান। সেক্ষেত্রে ভারতকেও জাহাজ পারাপারের জন্য ১৮ কোটি টাকা টোল দিতে হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।