ইরানের বার্তা, এবার মার্কিন হামলা হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, এবং তা খোলা হবে না যতক্ষণ না ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার প্ল্যান্ট পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী
শেষ আপডেট: 22 March 2026 22:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনের (Trump Iran warning) পর সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল ইরান। তাদের বার্তা স্পষ্ট, ইরানের উপর এবার মার্কিন হামলা হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে (Iran warning Hormuz closure), এবং তা খোলা হবে না যতক্ষণ না ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার প্ল্যান্ট পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
রবিবার ইরানের সেনা কমান্ড খতম আল আনবানিয়া এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেয়। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে হামলার হুমকি কার্যকর করে, তাহলে হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে (global oil supply risk)।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংস করা হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং তা পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা হবে না।”
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের জবাব
এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবার খুলে না দেয়, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি “গুঁড়িয়ে” দেওয়া হতে পারে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। সেই থেকেই শুরু হওয়া সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে পা দিয়েছে।
পাল্টা জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুর উপর। পাশাপাশি, ইজরায়েলের জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা অন্যান্য দেশগুলির স্থাপনাতেও হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট এই হরমুজ প্রণালী, সাধারণত বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
তবে বর্তমানে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এক শিপিং ডেটা সংস্থার মতে, স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এখন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারছে।
ইরানের দাবি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
‘বন্ধু’ ও ‘শত্রু’ দেশ আলাদা করছে ইরান
যদিও ইরান ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলির কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে, তবে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করছে, তাদের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ইরানি কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু পদক্ষেপ নিয়েও ভাবছে, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের উপর টোল বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই টানাপড়েন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে। মার্কিন চাপ ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারির মাঝে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।