ইসলামি দুনিয়ায় এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। কূটনৈতিক সমাধানের রাস্তা ক্রমশ সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

শেষ আপডেট: 28 February 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন-ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে (Iran school airstrike) অন্তত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ছাত্রীও রয়েছে। শনিবার তেহরানে প্রথম হামলার (US Israel strike Iran) তথ্য সামনে আসার পর দেশ জুড়ে বিস্ফোরণের খবর মিলতে থাকে। মিনাবে এই মৃত্যুই অভিযানের প্রথম নিশ্চিত হতাহতের ঘটনা।
মিনাবে (Minab attack) ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর একটি ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা গেছে।
খামেনেইয়ের দফতরের আশপাশে প্রথম দফার আঘাত
প্রাথমিক হামলাগুলির কয়েকটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর দফতরের আশপাশে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম দেশজুড়ে হামলার খবর দিয়েছে, রাজধানী তেহরান থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।
‘নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে নিন’: ট্রাম্প
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে নিন।” ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ইসলামিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একই সুরে বলেন, “আমাদের যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের জন্য নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের পরিস্থিতি তৈরি করবে।”
পারমাণবিক ইস্যু ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়, আর ট্রাম্প বারবার বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে একটি চুক্তি চান তিনি। একই সময়ে তেহরান দেশ জুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল।
পাল্টা হামলা, আকাশপথ বন্ধ একাধিক দেশে
হামলার পর ইসলামি দুনিয়ার একাধিক দেশে পাল্টা আঘাতের খবর আসে। বাহরিন, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার রিপোর্ট মিলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইরাক নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক কড়া ভাষায় জানায়, জবাব দিতে তারা “দ্বিধা করবে না”। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্বদেশ রক্ষার সময় এসে গিয়েছে। শত্রুর সামরিক আগ্রাসনের মোকাবিলা করতেই হবে।”
পরিস্থিতি কোন দিকে?
দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে এত বড় প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মিনাবে বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটি থাকলেও, স্কুলে হতাহতের ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ইসলামি দুনিয়ায় এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। কূটনৈতিক সমাধানের রাস্তা ক্রমশ সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।