Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলা ইরানে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খামেনেইকে সরানো হল নিরাপদ স্থানে

যদিও মার্কিন বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, তবু এক মার্কিন আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হামলায় আমেরিকা সরাসরি অংশ নিয়েছে।

মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলা ইরানে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খামেনেইকে সরানো হল নিরাপদ স্থানে

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 28 February 2026 15:28

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় (Middle East escalation) পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর দিকে মোড় নিচ্ছে। শনিবারই ইরানের উপর একযোগে সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। রাজধানী তেহরানে (Iran explosion Tehran) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-এর দফতরের কাছে এই হামলার ফলে গোটা অঞ্চলে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই তাঁকে দ্রুত অন্য একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর (Khamenei moved to safe place security)।

ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ্যে এনেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। হামলার পর মধ্য তেহরান এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় খামেনেইয়ের বাসভবনের কাছেই। তবে হামলার সময় ৮৬ বছরের এই নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি।

হামলার পরই তেহরানে তাঁর বাসভবনের আশপাশের রাস্তা দ্রুত বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এর মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আরও বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করলেও, ক্ষয়ক্ষতি বা কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

‘বড় সামরিক অভিযান শুরু’, ঘোষণা ট্রাম্পের (US Israel strike Iran)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় জানান, ইরানে “মেজর কমব্যাট অপারেশন” শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে ইরানের উপর চাপ বাড়াতে আমেরিকা এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা মানতে বাধ্য করা।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে চুক্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভের জেরে ইরান অভ্যন্তরীণ চাপে থাকায়, এই সময়টাকে সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

যদিও মার্কিন বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, তবু এক মার্কিন আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হামলায় আমেরিকা সরাসরি অংশ নিয়েছে।

সেনা ঘাঁটি, গোয়েন্দা কেন্দ্র-সহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতীকী সরকারি কেন্দ্রগুলি।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এই অভিযানকে “হুমকি নির্মূলের পদক্ষেপ” বলে বর্ণনা করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইজরায়েল হামলার কথা স্বীকার করার পর তেহরানে আরও বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়।

এর আগে ইরান বারবার জানিয়ে এসেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার রাখে। পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা হামাস ও হেজবোল্লার মতো সংগঠনের প্রতি সমর্থন নিয়ে কোনও আপস করতে রাজি নয় তেহরান।

আকাশপথ বন্ধ, গোটা অঞ্চলে সতর্কতা

হামলার পরপরই ইরান ও ইজরায়েল, দুই দেশই নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তার কারণে প্রতিবেশী ইরাকও বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণের মাঝে পাইলট এবং বিমান সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। দেশের কিছু অংশে মোবাইল পরিষেবাও বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে ইজরায়েলে জারি হয় জাতীয় সতর্কতা। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সাইরেন বেজে ওঠে দেশ জুড়ে। হাসপাতালগুলিতে জরুরি প্রোটোকল চালু করা হয়েছে, রোগী ও অপারেশন থিয়েটার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ জায়গায়।

পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল ইরান

এর আগেই ইরান সতর্ক করে দিয়েছিল, যে কোনও হামলার জবাবে ইসলামি দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও কর্মীদের লক্ষ্য করা হবে।

তেহরান জানিয়েছিল, তারা সরাসরি যুদ্ধ চায় না, তবে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে তারা সার্বভৌম অধিকার বলে দাবি করে এসেছে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক জোট নিয়েও আলোচনায় বসতে রাজি নয় ইরান।

অভ্যন্তরীণ চাপের মাঝেই বড় পদক্ষেপ

এই হামলার সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভ ও অসন্তোষে সরকার চাপে রয়েছে।

এক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্লেষকদের একাংশের মত, ইরানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


```