৮৬ বছরের খামেনেই হামলার সময় তেহরানে ছিলেন না। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের যে এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, সেখানেই রয়েছে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কার্যালয়।
.jpg.webp)
ছবি -এআই
শেষ আপডেট: 28 February 2026 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ভোরে প্রবল বিস্ফোরণে (Iran Israel Conflict) কেঁপে ওঠে ইরানের রাজধানী তেহরান। ইজরায়েল (Israel) স্বীকার করেছে, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তারা অগ্রিম সামরিক হামলা চালিয়েছে। এও জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatolla Ali Khameini) দফতরের কাছাকাছি এলাকাও এই আঘাতের আওতায় পড়ে।
সূত্রের খবর, ৮৬ বছরের খামেনেই হামলার সময় তেহরানে ছিলেন না। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের যে এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, সেখানেই রয়েছে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কার্যালয়। বিস্ফোরণের পর মোটা ধোঁয়া আকাশ ঢেকে দেয়। হামলার জেরে ইরানে মোবাইল পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ বলেন, “রাষ্ট্রের প্রতি থাকা হুমকি দূর করতেই এই অগ্রিম আঘাত।” একই সময়ে ইজরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজতে থাকে। ইজরায়েলি সেনা জানায়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এই আঘাত আচমকা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে ইজরায়েল, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। হামলার আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নেননি, তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ বা শাসন পরিবর্তনের পথও খোলা রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল বটে, কিন্তু সুরাহা হয়নি। পরবর্তী সপ্তাহে ফের বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। এদিকে আমেরিকা আরব দুনিয়ায় যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছিল। ট্রাম্প ইরানকে ১০-১৫ দিনের সময়সীমাও দিয়েছিলেন চুক্তিতে পৌঁছতে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে দাবি, এই হামলা ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযান হতে পারে। জুন মাসে আমেরিকা সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইজরায়েলের অভিযানে যোগ দেয় - যা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ সামরিক পদক্ষেপ। পাল্টা হিসেবে ইরান কাতারের আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
হামলার পর ইরান আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। তেল আভিভ ও আম্মানমুখী উড়ান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তেহরান আগেই সতর্ক করেছিল, আমেরিকা আঘাত হানলে অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।