শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি পাকিস্তানের সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলি। ওদের প্রধানমন্ত্রী এবং জেনারেল দুজনেই দারুণ মানুষ।

ট্রাম্পের সঙ্গে আসিম মুনির ও শেহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 28 February 2026 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের (Pakistan Afghanistan) সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ‘খোলা যুদ্ধে’ (Open War) পরিণত হয়েছে। এই চরম অস্থিরতার মাঝেই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের (Asim Munir) ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল এবং প্রয়োজন মনে করলে তিনি এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।
কী বললেন ট্রাম্প?
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি পাকিস্তানের সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলি। ওদের প্রধানমন্ত্রী এবং জেনারেল দুজনেই দারুণ মানুষ। আমি তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে খুব সম্মান করি। পাকিস্তান বর্তমানে অসাধারণ কাজ করছে।” উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ইসলামাবাদ এই পরিস্থিতিকে ‘খোলা যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন সমর্থন ইসলামাবাদের দিকে?
উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন এম হুকার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচের সঙ্গে কথা বলেছেন। হুকার জানিয়েছেন, “আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তালিবান আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পাকিস্তানের যে অধিকার রয়েছে, তার প্রতি আমাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছি।”
সীমান্তে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাস ও কনসুলেট আমেরিকান নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় শহরগুলিতে পাক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠনের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে— এমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামরিক ঘাঁটি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের।
যুদ্ধের দামামা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
দীর্ঘ ২৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, বিমান হামলায় তাদের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করেছে, তালিবানের ১৩ জন যোদ্ধা মারা গিয়েছেন। তবে দুই পক্ষই বিপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি করছে।
যদিও তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে প্রস্তুত। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছেন।