ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা থাকলেও তিনি সুস্থ আছেন। স্থানীয় সংবাদসংস্থাও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র উদ্ধৃত করে একই দাবি করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার (US Israel Attack On Iran) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিল তেহরান। ইরান থেকে ইজরায়েলের (Iran Israel Conflict) দিকে অন্তত ৩০টি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) জানান, ‘রোর অব দ্য লায়ন’ নামে অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তরফে তৈরি হওয়া অস্তিত্ব সংকট দূর করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ‘ঐতিহাসিক নেতৃত্ব’-এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানের মতো সন্ত্রাসপোষক রাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলে তা সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা থাকলেও তিনি সুস্থ আছেন। স্থানীয় সংবাদসংস্থাও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র উদ্ধৃত করে একই দাবি করেছে।
সংঘাতের আঁচ ছড়িয়েছে ইয়েমেনেও। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী (Yemen Houthis) ইজরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের রুট ও ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে আবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার হুমকি দিয়েছে তারা। নভেম্বর ২০২৫-এ গাজা শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার পর তারা আক্রমণ স্থগিত করেছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ জাহাজে একাধিক হামলা চালিয়েছিল এই গোষ্ঠী।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানে বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাঁর কথায়, আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য এবং ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের অভিযোগ, তেহরান আবার পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নেও সক্রিয় ছিল।
এও জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatolla Ali Khameini) দফতর এলাকাও এই আঘাতের আওতায় পড়ে। সূত্রের খবর, ৮৬ বছরের খামেনেই হামলার সময় তেহরানে ছিলেন না। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানের যে এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, সেখানেই রয়েছে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কার্যালয়। বিস্ফোরণের পর মোটা ধোঁয়া আকাশ ঢেকে দেয়। হামলার জেরে ইরানে মোবাইল পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।