ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটি আত্মরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বক্তব্য, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং বিশ্বশান্তির পরিপন্থী।

শেষ আপডেট: 28 February 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান (Iran reaction US Israel strike)। শনিবারই প্রথম সরকারি বিবৃতিতে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে (Iran warning retaliation), এবং দায়ীদের “চরম মূল্য” দিতে হবে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটি আত্মরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Middle East escalation Iran)। তাদের বক্তব্য, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং বিশ্বশান্তির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তেল আভিভ আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙেছে এবং এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
“আমেরিকা এবং জায়নিস্ট শাসনের এই নতুন সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘ সনদের মূল নীতির বিরোধী,” বিবৃতিতে এমনটাই বলা হয়েছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, এই হামলাকে তারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং এর জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাঁদের কাছে রয়েছে।
ধৈর্যের কথা বলেও কড়া বার্তা তেহরানের
তেহরান দাবি করেছে, গত কয়েক মাসে তারা যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে, যাতে আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা আর না বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তারা ধৈর্যের পথ বেছে নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ইরান।
“উত্তেজনা (Middle East tension) বৃদ্ধি রুখতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের জনগণ বরাবরই সংযম দেখিয়েছে”, বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক: ইজরায়েলের দাবি
ইজরায়েল জানিয়েছে, আমেরিকার সহায়তায় তারা ইরানের বিরুদ্ধে “প্রি-এম্পটিভ” বা আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করার কথাও ঘোষণা করেন।
খবর অনুযায়ী, হামলার একটি বড় অংশ ঘটেছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দফতরের আশপাশে।
নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের “সন্ত্রাসী শাসন” যে অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে, তা সরাতেই এই অভিযান।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ, গত ৪৭ বছর ধরে আয়াতোল্লা শাসন “ইজরায়েলের মৃত্যু” এবং “আমেরিকার মৃত্যু” স্লোগান তুলে আসছে। শুধু তাই নয়, তারা বহু আমেরিকানকে হত্যা করেছে এবং নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধেও অত্যাচার চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই সুরে কথা বলেছেন ট্রাম্পও। ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য “স্বাধীনতা”-র বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বনাম ‘রোরিং লায়ন’
এই সামরিক অভিযানের নাম নিয়েও সামনে এসেছে ভিন্নতা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury), অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী একে বলেছেন ‘রোরিং লায়ন’ (Operation Roaring Lion)।
এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক উত্তেজনা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশই খারাপ হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।