গতকালই যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল তেহরান। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে যদি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা স্বাগত জানাবে ইরান। তারপরই সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গেল পরিস্থিতি।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি
শেষ আপডেট: 16 March 2026 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মত বদল করল ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা সংঘাতে (Iran US Israel Conflict) আপাতত যুদ্ধবিরতির (Iran says no to US War Ceasefire) কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিল তেহরান।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই “উচিত শিক্ষা পেয়েছে” এবং দেশের মানুষ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তেহরান নিজের লড়াই চালিয়ে যাবে Abbas Araghchi Iran Statement on ceasefire)।
প্রসঙ্গত, গতকালই যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল তেহরান। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে যদি কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা স্বাগত জানাবে ইরান। তারপরই সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে গেল পরিস্থিতি।
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক NBC News–এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'মিট দ্য প্রেস'–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে কোনও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারে না ইরান। আরাঘচির কথায়, “আমাদের জনগণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে তিনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলেন। আরাঘচির দাবি, এই সংঘাতে সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল আমাদের দেশের মানুষকে খুন করছে। তারা ছাত্রীদের হত্যা করছে। এমনকি হাসপাতালেও হামলা চালাচ্ছে।”
আগের যুদ্ধবিরতিও ভেঙেছে, অভিযোগ ইরানের
ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, অতীতের যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলিও টেকেনি। তিনি গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই চুক্তিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর বক্তব্য, “তারা যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়েছে, আর এখন আবার যুদ্ধবিরতির কথা বলছে? এভাবে তো হয় না।” আরাঘচি স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হলে ইরানের অবস্থান বদলানোর কোনও প্রশ্নই নেই।
রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে জল্পনা
এই সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে কি না তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। চারটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া আরব দুনিয়ায় থাকা মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে। সেই তথ্যের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাঘচি বলেন, মস্কো ও তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাঁর কথায়, “ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতা নতুন কিছু নয়, এটা কোনও গোপন বিষয়ও নয়। তারা আমাদের নানা দিক থেকে সাহায্য করছে। তবে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।”
সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য আমেরিকার
একই অনুষ্ঠানে আলাদা সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তিনি বলেন,
আমেরিকা জানে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমরা জানি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।” তবে তিনি এও দাবি করেন, যদি রাশিয়া কোনও সাহায্য করেও থাকে, তাতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি।
তাঁর মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌবাহিনী, স্থলবাহিনী এবং কমান্ড কাঠামোকে বড়সড়ভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।
মার্কিন সেনা নামালে কড়া হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি আরও এক ধাপ এগিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি আমেরিকা ইরানের মাটিতে সেনা মোতায়েন করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাহসী সৈন্যরা প্রস্তুত রয়েছে। যে কোনও শত্রু আমাদের মাটিতে ঢুকলে তাদের সঙ্গে লড়বে, হত্যা করবে এবং ধ্বংস করে দেবে।”