রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দিনে ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও বৈঠকে তারা অংশ নেবে না। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনের তরফে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিকেও “অগ্রহণযোগ্য” বলে মনে করছে তেহরান।

পাকিস্তান আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকার ইরানের
শেষ আপডেট: 4 April 2026 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ আপাতত থমকে (Iran US ceasefire talks failure) গেল বলেই মনে করছে কূটনীতি বিশেষজ্ঞ মহল। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির (Pakistan mediation Iran US) চেষ্টা সত্ত্বেও আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের উদ্যোগে যে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাতে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান (Iran refuses US talks Pakistan)।
মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে চলা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।
ইসলামাবাদে বৈঠকে 'না' তেহরানের (Middle East diplomacy crisis)
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দিনে ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও বৈঠকে তারা অংশ নেবে না। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনের তরফে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিকেও “অগ্রহণযোগ্য” বলে মনে করছে তেহরান। যদিও একথা শেষ কিছুদিন ধরেই বলে আসছে ইরান।
ফলে পাকিস্তানকে ঘিরে যে আলোচনার অবকাশ এবং যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা তাহলে কি ব্যর্থই?
আরব দুনিয়ার এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষ থামাতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আলোচনার জন্য মঞ্চ তৈরি করতেও আগ্রহ দেখিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছিলেন, “অর্থপূর্ণ আলোচনা আয়োজন করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।”
কিন্তু ইরানের এই অবস্থানের পর সেই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালভাবেই এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমরা আলোচনায় অত্যন্ত ভাল অবস্থানে রয়েছি।” তবে সেই মন্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানে।
এর আগেও ইরান স্পষ্ট করেছিল, পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনও আলোচনায় তারা অংশ নিচ্ছে না। মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘেই জানান, আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা চলছে না।
তাঁর দাবি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে বার্তা এসেছে, তাতে “অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক” দাবিই করা হয়েছে।
১৫ দফা প্রস্তাবেও আপত্তি
বাঘাই আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবকেও “অতিরঞ্জিত, অবাস্তব ও অযৌক্তিক” বলে খারিজ করেছে তেহরান।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব - সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।
যদিও যুদ্ধবিরতির জন্য আঞ্চলিক দেশগুলির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান, তবে তাদের মন্তব্য, “এই সংঘাতের সূত্রপাত কে করেছে, সেটাও মনে রাখতে হবে।”
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা-ইরান আলোচনার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কার্যত অনিশ্চিত ইরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কোনও সম্ভাব্য আলোচনা হলেও তা সরাসরি হবে না এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা সম্ভব - তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।