ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালীতে “নতুন কিছু নিয়ম” চালু করা হতে পারে। এর ফলে যেসব দেশ ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালী
শেষ আপডেট: 19 March 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ পারাপারের উপর টোল বসানোর কথা ভাবছে ইরান (Strait of Hormuz Toll Iran)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণের পথটিতে (Global Oil Route) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের এক ল'মেকার বা আইনপ্রণেতা জানান, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যেসব দেশ পণ্য, জ্বালানি বা খাদ্য পরিবহণ করে, তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স বা টোল (Iran Shipping Tax Hormuz) আদায় করা হবে - সংসদে এমন একটি প্রস্তাব আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই কৌশলগত জলপথের উপর ইরানের বাড়তি নিয়ন্ত্রণকে আর্থিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা (Energy Trade Crisis) হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জাহাজের গতি ব্যাহত করেছে, বিশেষ করে যেগুলি তাদের শত্রু দেশ বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালীতে “নতুন কিছু নিয়ম” চালু করা হতে পারে। এর ফলে যেসব দেশ ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই অঞ্চলে অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে, কিছু জাহাজকে মাঝপথেই যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে।
কন্টেনার জাহাজ ও বাল্ক ক্যারিয়ার, সব ধরনের জাহাজই এই হামলার শিকার হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে পালাতে হয়েছে এবং জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এই ধারাবাহিক হামলার ফলে ৩৩ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছে। বহু ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে বা বিকল্প পথে ঘুরে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই সংঘাতের জেরে হাজারেরও বেশি জাহাজের যাত্রাপথে দেরি হয়েছে বা মাঝপথে আটকে পড়েছে।
তবে সব জাহাজের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না। ইরান বেছে বেছে কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, বিশেষ করে যেগুলি চিন ও ভারতের উদ্দেশে তেল নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিমি দেশের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ফলে কার্যত এই প্রণালী এখন একটি ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’-এ পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলির মধ্যে অন্যতম।
সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও ইরান - এই বড় তেল উৎপাদক দেশগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছতে ব্যাপকভাবে এই প্রণালীর উপর নির্ভরশীল। আর এই জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে টোল বসানোর ইরানের ভাবনা শুধু একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, এটি বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সমীকরণও বদলে দিতে পারে।