পাক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, “ইজরায়েল এই দুই নেতার অবস্থান জানত এবং তাঁদের টার্গেট করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানাই, যদি এঁদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ থাকবে না। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে পিছু হটতে বলে।”

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের অনুরোধে (Pakistan mediation Iran Israel) ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফকে ‘হিট লিস্ট’ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল (Iran leaders removed from hit list Israel), এমনটাই দাবি করেছেন এক পাকিস্তানি আধিকারিক। চলমান ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মাঝেই এটি একটি বড় কূটনৈতিক মোড় বলে মনে করছে বিশ্লেষক মহল।
Reuters-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, “ইজরায়েল এই দুই নেতার অবস্থান জানত এবং তাঁদের টার্গেট করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানাই, যদি এঁদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আলোচনার (Middle East peace talks) জন্য আর কেউ থাকবে না। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে পিছু হটতে বলে।”
এর আগে The Wall Street Journal প্রথম জানায়, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কথা মাথায় রেখে এই দুই ইরানি নেতাকে কয়েক দিনের জন্য হত্যা-তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই রিপোর্টে বলা হয়, চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেখানে পাকিস্তানের ভূমিকার উল্লেখ ছিল না।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক
বর্তমানে ইরান যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদ একইসঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যা অন্য বেশিরভাগ দেশের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও, ভবিষ্যতে যদি শান্তি আলোচনা হয়, তাহলে পাকিস্তানই সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলিকে ছাড়
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে “বন্ধুত্বপূর্ণ” দেশগুলির জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তান - এই দেশগুলির জন্য আমরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছি।”
তবে শত্রু দেশ এবং তাদের মিত্রদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধই রাখা হয়েছে। আরাঘচির সাফ কথা, “আমাদের দৃষ্টিতে হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নয়, শুধুমাত্র শত্রুদের জন্য বন্ধ। শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনও কারণ নেই।”
১৫ দফা প্রস্তাব, তবু অনিশ্চয়তা কাটেনি
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তেহরান সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া। তবে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখা হলেও সংঘাত কমাতে আলোচনায় বসার কোনও ইচ্ছা এই মুহূর্তে নেই।