গত সপ্তাহান্তে আমেরিকা ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ১২ দিনের সংঘাতে এই প্রথম সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল ওয়াশিংটন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 June 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়াতোল্লা খামেনেইকে (Ayatollah Ali Khamenei) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল তেহরান। শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Aragchi) মার্কিন তাঁর মন্তব্যকে ‘অসম্মানজনক’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “যদি সত্যিই চুক্তির পথে এগোতে চান ট্রাম্প, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি এই ধরনের অশালীন ভাষা বন্ধ করতেই হবে।”
সম্প্রতি ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, তিনি আয়াতোল্লা খামেনেইকে ‘‘একটি কুৎসিত এবং অপমানজনক মৃত্যুর’’ হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি জানতাম উনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। চাইলেই আমেরিকা বা ইজরায়েল তাঁকে হত্যা করতে পারত। আমি তা হতে দিইনি। ওঁকে বাঁচিয়ে দিয়েছি।” এই মন্তব্যের জন্যই ফের কার্যত চরমে পৌঁছেছে তেহরান-ওয়াশিংটনের সম্পর্কের সমীকরণ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করে আরাগচি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই তাঁদের আলোচনায় আগ্রহী হন, তবে তাঁকে খামেনেই এবং তাঁর কোটি কোটি অনুগামীর প্রতি সম্মান দেখাতেই হবে। ইরানের মানুষ কোনও হুমকি কিংবা অপমান সহ্য করবে না। বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে, কীভাবে ইজরায়েল আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে পিছু হটেছে।” ইজরায়েলকে খোঁচা দিয়ে তাঁর এও বক্তব্য, “ইরানের ক্ষমতা দেখে ইজরায়েলকে নিজের বাবা আমেরিাকার কাছে যেতে হয়েছিল! আমাদের মিসাইল হানার সামনে ওরা অসহায় ছিল।”
গত সপ্তাহান্তে আমেরিকা ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ১২ দিনের সংঘাতে এই প্রথম সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল ওয়াশিংটন। যদিও সেই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে ফের একবার উত্তপ্ত তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক। ট্রাম্পের মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।