প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ
শেষ আপডেট: 27 June 2025 08:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা ‘বাস্তবিক অর্থে কার্যকর’ হলেও, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি আসতে চলেছে যদি ইরান পরমাণু অস্ত্রকে হাতিয়ার করা আটকাতে গঠিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (Nuclear Non-Proliferation Treaty) থেকে সরে দাঁড়ায়। এমনটাই মনে করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট (France President) ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের ম্যাক্রঁ বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি এর পরিণতিতে ইরান NPT থেকে বেরিয়ে যায়। তাহলে শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়বে।’
NPT হচ্ছে এমন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। ম্যাক্রঁ জানান, তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, যাতে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যায়।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টা ও দিনের মধ্যে প্যারিস-তেহরানের সংযোগ সম্পর্কে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য হল সবাই যেন একমত হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ফের শুরু না করা যায়।’
ইরান ১৯৭০ সালেই NPT-তে স্বাক্ষর করেছিল, যার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (International Atomic Energy Agency – IAEA)-র কাছে তাদের পারমাণবিক উপাদানের হিসেব দিত। তবে সম্প্রতি ইরান অভিযোগ করেছে, IAEA আসলে ইজরায়েলের ‘আগ্রাসনের অংশীদার’ হিসেবে কাজ করছে। সেই প্রেক্ষিতেই তারা NPT ছাড়ার পথ তৈরি করতে শুরু করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে, আমেরিকা তিনটি ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে একাধিক আক্রমণ চালায়। B-2 বম্বার থেকে দু’জায়গায় GBU-57 'bunker buster' বোমা, এবং একটি গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন থেকে তিন নম্বর কেন্দ্রে টোমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আক্রমণকে ‘স্পেকটাকুলার মিলিটারি সাকসেস’ আখ্যা দিয়েছেন। এবং বারবার বলেছেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কার্যত ‘উড়ে গিয়েছে’।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে মাত্র। এই মূল্যায়নকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক।